প্রথম পাতা

নুরজাহান গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ২৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নুরজাহান গ্রুপের সহযোগী মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও এমডি জহির আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গতকাল চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। এতে ব্যাংকটির সাবেক তিন কর্মকর্তাও রয়েছেন। দুদকের সহকারী পরিচালক নেয়ামুল আহসান গাজী মামলাটি করেন।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি শেয়ার বিজকে নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের ব্যবসায় এক সময় শীর্ষ পর্যায়ে ছিল নুরজাহান গ্রুপ। পরবর্তীকালে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, অনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ, ভিন্ন খাতে বিনিয়োগসহ নানা কারণে গ্রুপটি দেশের অন্যতম শীর্ষ ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়। এর ধারাবাহিকতায় একাধিক ব্যাংকের খেলাপি তালিকায়ও যুক্ত হয়। এছাড়া ঋণপ্রাপ্তিতে অনেক সময় ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাও সহযোগিতা করেন। দুদকের তদন্তে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ২৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা আত্মসাতের আলামত পায়। এজন্য মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও এমপি হির আহমেদ এবং অগ্রণী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার সাবেক ডিজিএম ও শাখা ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রমিজ উদ্দিন ও সাবেক সিনিয়র অফিসার ত্রিপদ চাকমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে চট্টগ্রামের নুরজাহান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের এমডি ২০১১ সালের ১০ মার্চ ঋণের আবেদন করেন। আবেদনে মালয়েশিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ‘ক্রুড পামওলিন’ আমদানির জন্য ২০ শতাংশ মার্জিনে ১২০ দিন মেয়াদে প্রায় তিন হাজার ২৭০ কোটি চার লাখ টাকার ঋণপত্র এবং মার্জিন অবশিষ্ট ২৬১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার টিআর (ট্রাস্ট রিসিট) ঋণ মঞ্জুরের কথা বলা হয়। এর মধ্যে মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের অনুকূলে ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০১২ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত আটটি টিআর ও তিনটি পিএডি (পেমেন্ট অ্যাগেইনস্ট ডকুমেন্ট) ঋণ বাবদ মোট ২৮০ কোটি ৭২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৩ টাকা বিতরণ করে অগ্রণী ব্যাংক।
ঋণপত্রের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শাখায় মোট ১১টি আমদানি দলিল গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আটটি আমদানি দলিলের প্রয়োজনীয় মার্জিন ব্যাংকের শাখায় জমা করে মূল দলিল দিয়ে আমদানি করা পণ্য খালাস করে। কিন্তু তিনটি আমদানি বিলের মূল দলিল ব্যাংকের শাখায় সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় প্রতারণার মাধ্যমে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ৯৮ কোটি ২৭ লাখ টাকার পণ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে ছাড় করে। ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান মার্জিন ও অন্যান্য খাতে মোট ২২ কোটি ১৬ লাখ ২২ হাজার টাকা জমা দেয়। বাকি ২৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৭৩ টাকা আত্মসাৎ করে। ব্যাংকের ওই শাখার তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ত্রিপদ চাকমা ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রমিজ উদ্দিন এ-সংক্রান্ত ঋণ প্রস্তাব তৈরি করেন। ওই ঋণ প্রস্তাব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ক্রেডিট কমিটির সুপারিশ বা মতামতের আলোকে অনুমোদন দিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মঞ্জুরিপত্র দেওয়া হয়
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতে, নুরজাহান গ্রুপের মূল ব্যবসা ছিল তেল আমদানিকারক, পরিশোধন, উৎপাদক ও বাজারজাতকারী। সময়ের ব্যবধানে নুরজাহান সুপার অয়েলস লিমিটেড, মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেড, জাসমির ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, জামিয়া এডিবল অয়েল লিমিটেড, জামিয়া সুপার অয়েল লিমিটেড, জামিয়া ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, নুরজাহান সিনথেটিক লিমিটেড, সাগরিকা বোতল অ্যান্ড প্যাকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, তাসমিন ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড, নুরজাহান স্পাইসিস লিমিটেড, নুরজাহান ব্রিকস লিমিটেড, তাসমিন প্রপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, নুরজাহান ট্যাংক টার্মিনাল লিমিটেড, আহমেদ ট্রেডার্স, আরওয়াই শিপিং লাইনস লিমিটেড, নুরজাহান সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, সুফি অ্যান্ড ব্রাদার্স, লাহিড়ি এন্টারপ্রাইজসহ নুরজাহান গ্রুপের প্রায় ২০টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি, বেসরকারি ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আছে। কিন্তু গত চার-পাঁচ বছরে গ্রুপটির বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

সর্বশেষ..