প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: বাড়ছে প্রযুক্তির অপব্যবহার  

 

হামিদুর রহমান: যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মাহবুবুল আলম। গত সোমবার বিটিআরসিতে তিনি অভিযোগ করেন, ফেসবুকে তার মেয়ের নামে ভুয়া আইডি খুলে সেখানে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। এ অপকর্ম কে বা কারা করছে তা নিশ্চিত হতে বিটিআরসিতে পরামর্শ চাইলে তারা জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে।

একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে ওই দিন বিটিআরসিতে আসেন বাড্ডার জনি (ছদ্মনাম)। তিনি অভিযোগ করেন, তার কাজিন শরিফ (ছদ্মনাম) দেশের বাইরে থাকেন। অথচ শরিফের নামে ভুয়া আইডি খুলে তাকে বাজেভাবে উপস্থাপন করছে। কে এ আইডি খুলেছে ও ব্যবহার করছে তা জানার জন্য বিটিআরসিতে যোগাযোগ করলে তাকে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি বিভাগে পাঠানো হয়।

প্রতিদিনই বিটিআরসিতে এ ধরনের ১০-১২ জন অভিযোগ নিয়ে আসছেন। এদের বেশিরভাগের অভিযোগ ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে তাদের নামে প্রতারণা ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদ শেয়ার বিজকে বলেন, ফেসবুকের সব কিছু বিটিআরসির হাতে না থাকায় পুরোপুরি সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। সামনে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন চূড়ান্ত হবে। তখন আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে পারবো।

সূত্রমতে, দেশে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন না থাকায় অসাধু চক্রের কবলে বেড়ে চলছে প্রযুক্তির অপব্যবহার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইটে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে বিভিন্ন পেশাজীবী নারী ও তরুণীরা।

ডিএমপি কার্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন অভিযোগকারী আসছেন বিভিন্ন রকম অভিযোগ নিয়ে। আর চলতি বছরে জুন পর্যন্ত অভিযোগ এসেছে প্রায় দুই হাজার। আর এসব ভোক্তভোগীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন কলেজ, ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ও পেশাজীবী নারী। বিশেষ করে যৌন হয়রানির কারণে পরিবারে এবং সমাজে বিব্রত ও হেনস্তা হচ্ছেন তারা। তবে এর মধ্যে মামলা করেছে পাঁচ জন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের এডিসি নাজমুল হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, প্রযুক্তিতে  বিভিন্ন ধরনের অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আগের তুলনায় বর্তমানে অভিযোগকারীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ফেসবুকের এ সমস্যায় যারা পড়ছেন তাদের বেশিরভাগ হচ্ছে নারী।

তিনি বলেন, আমরা যে আইডিগুলো চিহ্নিত করতে পারছি না সে আইডিগুলোর বিরুদ্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে তারা ওই আইডির সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অপরাধী প্রমাণিত হলে তাদের আইডি ব্লক করে দেয়। আমাদের যতটুকু সেবা দেওয়া দরকার আমরা তার কোনো ত্রুটি করছি না।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের ৭৫ শতাংশ হচ্ছে ফেসবুক, আর ১৫ শতাংশ অভিযোগ বিভিন্ন ব্লগ ও পর্নো সাইটের বিরুদ্ধে। বাকি ১০ শতাংশ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উসকানিমূলক তথ্য ছড়ায় এমন সাইটের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ই-মেইলে হুমকি, ওয়েবসাইট হ্যাকের অভিযোগও রয়েছে।

বিটিআরসির একজন সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ বলেন, কোনো সাইটের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ আসে, তাদের প্রথমে ছবি বা ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করা হয়। তারা সাড়া না দিলে ওই ওয়েবসাইটটি যেন বাংলাদেশে দেখা না যায়, সে ব্যবস্থা করা হয়। তবে কোনো ব্যক্তির ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলে অনেক সময় আবার নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে একই কাজ করা হয়। ফলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

এ বিষয়ে প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার শেয়ার বিজকে বলেন, বর্তমানে দেশে সাত কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আর সাত কোটি মানুষ সংশ্লিষ্ট সেখানে কে কী করছে তার কোনো পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেই। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তুলনায় অপরাধীরা খুব কম সংখ্যক। এখন যদি এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা যায় তাহলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। এটি তদন্ত করার জন্য দেশে ডিজিটাল আইন নেই। ফলে প্রযুক্তির অপব্যবহার বাড়ছে।