দিনের খবর সারা বাংলা

নেই স্বাস্থ্যবিধি, ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত খামারিরা

সাতক্ষীরার পশুর হাট

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় অনলাইন হাটের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে সরগরম উম্মুক্ত স্থানে কোরবানির পশুর হাট। লকডাউনের বিধিনিষেধ  শিথিল করার একদিন আগেই স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হয়েছে  কোরবানির পশুর হাট।

ক্রেতা সমাগম বাড়ায় গরুর দাম কিছুটা বেড়েছে। এতে খামারিদের মুখে হাসি ফুটেছে। মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬ হাজার ৪০১টি পশু। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৪৮৬টি গরু ও ২৫ হাজার ৯১৫টি ভেড়া ও ছাগল। এবার চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পশু রয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে বাকি সাত হাজার ৪৫০টি পশু আশপাশের জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব।

কোরবানির জন্য ক্রেতারা যাতে সুস্থ সবল পশু পেতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আগে থেকেই খামারিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া হাটগুলোয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিমও কাজ করছে।

গত শুক্রবার সরেজমিনে সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ও সদরের কদমতলা পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে প্রচুর গরুও ছাগল বেচাকেনা চলছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই।

সরকারের বিধিনিষেধের আওতায় মাস্ক পরিধান, ক্রেতা-বিক্রেতার একমুখী চলাচল, তাপ মাপা পরিমাপের যন্ত্র,  হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত বেসিন, সাবান রাখতে বলা হলেও কোনো কিছু পরিলক্ষিত হয়নি।

আশাশুনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি ভ্রাম্যমাণ টিম বুধহাটা বাজারে কাজ করছে।

বাজারে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আব্দুস ছামাদ বলেন, প্রথম দিকে গরুর বাজার একটু মন্দা গেলেও আজ (শুক্রবার) মোটামুটি দাম পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর ঈদের বাজারে যে গরুর দাম ছিল ৬০ হাজার টাকা, আজ সেই গরু বিক্রি হয়েছে ৬৮ হাজার টাকায়।

ক্রেতা সাহিদউদ্দীন জানান, লকডাউন শিথিল হওয়ায় সদরের কদমতলা হাটে গরুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই পশুকে খাওয়ানো ও রাখার বিষয়টি ঝামেলা মনে করে শেষ দিকে গরু  কেনেন। ক্রেতা বেশি হওয়ায় দামও কিছুটা বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা।

সাতক্ষীরায় খামারিদের মধ্যে বৃহৎ আকারের গরু নিয়ে আলোচনায় এসেছে পাটকেলঘাটা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের আব্দুল মাজেদ বিশ্বাসের খামারের ২৫ মণ ওজনের শাহিওয়াল জাতের গরু ‘রাজা বাবু’। এর দাম হাকানো হয়েছে সাত লাখ টাকা। বুধবার পাটকেলঘাটা পশু হাটে গরুটি তোলা হলে দাম উঠে সর্বোচ্চ সাড়ে চার লাখ টাকা। বিক্রেতা বলেন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম থেকে বেপারি না আসায় বড় গরুর দাম এবার অনেক কম।

তিনি বলেন, এখানে আশানুরূপ দাম না পেলে ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, মহামারি কারণে ন্যায্য দামে পশু বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছে খামারিরা। মাসজুড়ে লকডাউন থাকায় বাইরের জেলা থেকে গরুর বেপারিরা সাতক্ষীরায় আসতে পারেনি। এ কারণে জেলায় যারা ১০ থেকে ২৫/৩০ মণ ওজনের বিভিন্ন জাতের গরু লালনপালন করেছেন, তারা বিক্রি নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। কভিডের ভয়াবহতার কারণে পশুর উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খামারিরা।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে টানা পাঁচ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে টানা পাঁচ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঈদের সরকারি ছুটি ব্যতীত বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, আগামী ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্যে আগামী ২০ জুলাই  মঙ্গলবার থেকে ২৪ জুলাই শনিবার পর্যন্ত বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে বিষয়টি পত্র দ্বারা ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমপ্লয়িজ কার্গো ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সব কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

ছুটি শেষে ২৫ জুলাই রোববার থেকে বন্দর দিয়ে দু’দেশের মাঝে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য এ সময় বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যগুলো খালাস করে নিতে পারবেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি রপ্তানিকারকরা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..