বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণা পরিহার করতে হবে

জেসিআই সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ উচ্চ শিক্ষিত তরুণ। এ তরুণরাই দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার অগ্রপথিক। আর এ শিক্ষিত তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে গড়ে তুলতে পারলেই দেশের টেকসই উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাবে। তার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা। এ জন্য তরুণদেরও বৃত্তের বাহিরে এসে চিন্তা করতে হবে। গতকাল জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কসমোপলিটন চিটাগংয়ের এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের সংগঠন জেসিআই কসমোপলিটন চিটাগং ‘লিডারশিপ অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইম্যান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট ডেলা ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের প্রশিক্ষক ছিলেন জেসিআই ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ইরফান হক। এ সময়ে জেসিআই চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক উর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু বক্কর শানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক শেয়ার বিজ।
স্বাগত বক্তব্যে জেসিআই কসমোপলিটন চিটাগংয়ের সভাপতি অসীম কুমার দাশ বলেন, আগামীতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হবে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্ম। এ জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত ধ্যান-ধারণা বাদ দিয়ে ‘আউট অব বক্স’ চিন্তা করতে হবে। তরুণদের মেধা, নেতৃত্ব, যোগ্যতায় দেশে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সঠিক নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নেতৃত্ব বিকাশের তরুণদের স্বদিচ্ছা, আগ্রহ, প্রচেষ্টা থাকতে হবে। তা না হলে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
লিডারশিপ অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন স্কিল ডেভেলপম্যান্ট ট্রেনিং শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারের প্রশিক্ষক ইরফান হক বলেন, লিডারশিপ বা নেতৃত্ব হচ্ছে একজন মানুষের সেই সক্ষমতা যা দিয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সমাজের মানুষকে বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পরিচালিত করতে পারে। তিনি বলেন, একজন সফল নেতার দায়িত্ব হচ্ছে তার অনুসারীদের শুধু অনুপ্রেরিত ও পরিচালিত বা তাদের দিয়ে কাজ করানোই নয় বরং তার অনুসারীদের মাঝ থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জনের প্রতিভার অন্বেষণ করা। তিনি বলেন, শুধু নেতৃত্বের কারণে একজন নেতা ও অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করে দেয়। এক্ষেত্রে একজন নেতা দল বা প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। আর আরেকজন ব্যবস্থাপক শুধু সাময়িক লক্ষ্য অর্জনে কর্মীদের পরিচালিত করে থাকে।
দিনব্যাপী সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

সর্বশেষ..