Print Date & Time : 9 March 2021 Tuesday 6:11 am

নেসলে বাংলাদেশকে মেধাস্বত্ব সনদ দিল আইসিডি কাস্টমস

প্রকাশ: November 29, 2020 সময়- 11:33 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডকে কাস্টমস রেকোর্ডেশন মেধাস্বত্ব সনদপত্র দিয়েছে আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউস। প্রথমবার কোনো প্রতিষ্ঠানকে মেধাস্বত্ব সনদপত্র দেওয়া হয়েছে। মূলত ভেজাল পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে এ সনদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসের কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানে এ সনদপত্র দেওয়া হয়। আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউস কমিশনার মোবারা খানম প্রধান অতিথি হিসেবে নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

এসময় নেসলের পক্ষে মেধাস্বত্ব সনদ গ্রহণ করেন নেসলে বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব ও প্রধান আইন কর্মকর্তা দেবব্রত রায় চৌধুরী, নেসলের আইনজীবী ও বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবিএম হামিদুল মিসবাহ। এছাড়া আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ নাহিদুন্নবী, সহকারী কমিশনার জুলেখা খানম, আব্দুল লতিফ ও মো. দিলদার হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনার মোবারা খানম বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশে মেধাস্বত্ব আইন যেভাবে পরিপালন করা হয়, আমাদের দেশে সেভাবে পরিপালন করা হয় না। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কঠোরভাবে পরিপালন করা হয়। তবে নেসলের মাধ্যমে শুরু হলো, এটা অনেক বড় জিনিস। সব প্রতিষ্ঠানকে বিষয়গুলো দেখা দরকার। নেসলে বাংলাদেশকে উদ্দেশ করে কমিশনার বলেন, ট্রেডমার্কের বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন করা দরকার। নেসলে বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে সচেতনতা তৈরি করলে ভালো। আমরা রাজস্ব আহরণের মধ্যে থাকি, সে অর্থে সচেতনতা তৈরির বিষয়টি কাস্টমসের অংশে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলোকে মেধাস্বত্বের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আমরা কোম্পানিগুলোকে ট্রেডমার্কের বিষয়ে বলছি, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ জানতে পারেনি। ফলে সচেতনতা তৈরি না হলে মেধাস্বত্বের সংরক্ষণ হবে না। আইসিডি অনেক কিছুতেই পাইওনিয়র। যেমন অ্যাসাইকুডা প্রথম আইসিডিতে পাইলটিং হয়েছে। অনলাইনে ইডিএম পাইলটিং হচ্ছে এ কাস্টম হাউসে। কাস্টম হাউসগুলোর মধ্যে প্রথমবার মেধাস্বত্ব সনদ দিয়ে আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউস ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে থাকল। বর্তমান চেয়ারম্যান ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে জীবনযাত্রা সহজ হবে, ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।’

এবিএম হামিদুল মিসবাহ বলেন, ‘মেধাস্বত্ব বলবৎকরণ (আমদানি ও রপ্তানি) বিধিমালা, ২০১৯ হওয়ার পর প্রথমবার নেসলে বাংলাদেশ মেধাস্বত্ব সনদের জন্য আবেদন করেছি। আমরা সব কাস্টম হাউসে আবেদন করেছি, কোথাও থেকে আমরা কোনো পজিটিভ সাড়া পাইনি। সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। প্রথমবার আইসিডি কমলাপুর থেকে সাড়া পেয়েছি, সনদপত্র পেয়েছি। মেধাস্বত্ব সনদের বাস্তবায়ন শুরু হলে রাজস্ব আহরণ বেড়ে যাবে। এর মাধ্যমে ভেজাল ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া পণ্য কমে যাবে। নেসলে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে এখন সবাই অনুসরণ করবে।’

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, অসাধু আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন রোধ এবং বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য এনবিআর মেধাস্বত্ব বলবৎকরণ (আমদানি ও রপ্তানি) আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে কোনো পণ্যের মেধাস্বত্বের মালিক তার মেধাস্বত্ব ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট, ডিজাউন, কপিরাইট বা ভৌগোলিক নির্দেশক হিসেবে অসাধু আমদানি ও রপ্তানিকারক মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন রোধে মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড আইসিডি কাস্টম হাউসের কাছে মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে নেসলে বাংলাদেশকে মেধাস্বত্ব সনদ দেওয়া হয়েছে।