প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নৈশ কোচে দস্যুতা রোধে কঠোর হোন

ডাকাতির প্রতিবাদ করায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই বাসযাত্রী। কুষ্টিয়া থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ঈগল এক্সপ্রেস বাসের যাত্রীদের মারধর করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ডাকাতরা। দুই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতনও চালায় তারা। সংবেদনশীল মানুষ এতে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হবেন।  বর্বর এ ঘটনা আমাদের ও রাষ্ট্রের অনেক সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। বাসটির যাত্রী ছিলেন নারী-শিশুসহ বয়স্ক মানুষজন। তারা প্রত্যেকে ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, ডাকাতি, ধর্ষণ, লুটপাট, মারধরÑসবই চালায় ডাকাতরা।

আমরা কি চেয়ে চেয়ে দেখব! সময়ের বাস্তবতায় সাধারণ মানুষ একপ্রকার অসহায়! কিন্তু রাষ্ট্র তো অসহায় নয়! সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আইন লঙ্ঘনের দায়ে দায়ী ব্যক্তিদের ত্বরিত তৎপরতায় আইনের আওতায় আনার খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এক শ্রেণির ব্যক্তি ওই আইন যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য নসিহত করেন। ওই আইনের গুরুত্ব বলতে গিয়ে কেউ এমনও বলেন যে, রাষ্ট্রকে কখনও দুর্বল ভাববেন না। রাষ্ট্র আইন প্রয়োগ করলে যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা দেখেছি, কেবল ব্যবস্থা নিতে পারে না; ব্যবস্থা নেয়ও। কিন্তু নাগরিকদের জন্য যুগপৎ হতাশার ও কষ্টের বিষয় এই যে, নাগরিকদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রে যেন ‘দুর্বল’ হয়ে যায়।

নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে বাসে দূরপাল্লার বাসে উঠতে হয়। অথচ গভীর রাতে বাসটি রাস্তায় জনমানবহীন সড়কে বারবার থামিয়ে যাত্রী তুলেছে। এমন যাত্রীরাই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ডাকাত দলের সদস্যরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বাসটিতে ওঠেন। তখনও বাসের চালক ও তার সহকারী বুঝতে পারেননি কী দুঃখজনক পরিস্থিতির শিকার হবেন তাদের বাসের যাত্রীরা! প্রশ্ন এভাবে যাত্রী উঠানোর পর অনেক ধরনের দুর্ঘটনা এর আগে অনেকবার সংঘটিত হয়েছে, ওই দুর্ঘটনা থেকে পরিবহনমালিক শ্রমিকরা কোনো শিক্ষা নেননি। মাসুল দিতে হচ্ছে নিরীহ যাত্রীদের।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার নারী পরিবারের অমতেই কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকায় গিয়েছেন। তাতে পরিবারের কষ্ট কমবে। কিন্তু কষ্ট কি কমেছে! নারীর ক্ষমতায়নে নেয়া রাষ্ট্রের গৃহীত ব্যবস্থায় নারী কতটা নিরাপদ? আমরা সম্মানিত করতে না পারি, কিন্তু অসম্মান করতে তো পারি না। মুক্তিযুদ্ধে নারী মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নিয়েছেন দেশ ও সম্ভ্রম রক্ষায়। তারা আমাদের দেশ রক্ষা করেছেন, আমরা তাদের সম্ভ্রম রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছি না। এটি লজ্জার!

বাসের এক যাত্রী বলেছেন, দেহ তল্লাশির সময় মেয়েটির সঙ্গে দুজন ডাকাতের বাগ্বিতণ্ডা হয়। মেয়েটি প্রতিবাদ করেন। এর পরই ধর্ষণের শিকার হন তিনি।

বলা যায়, পরিবহনমালিকদের দায়িত্বহীনতা এবং অবহেলায়ই সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ ঘটছে। গণপরিবহনের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও ঈগল পরিবহনের তা ছিল না। ঘটনার পর পুলিশ ডাকাত ধরতে সক্ষম হলেও হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সভ্য সমাজে এমন ঘটনা সম্পূর্ণ অনাকাক্সিক্ষত। সাধারণ দীর্ঘশ্বাস ফেলতে পারেন কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। শাসককুলে যারা আছেন, তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। ঈগল এক্সপ্রেসে ডাকাতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। ডাকাতি ও ধর্ষণের শিকার যাত্রীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।