প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নোট প্রত্যাহারের প্রভাব: লোকসান কাটিয়ে মুনাফার আশা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট প্রত্যাহারের প্রভাবে দেশটির অর্থনীতির প্রতিটি খাতে কম বেশি প্রভাব পড়েছে। বাদ যায়নি পুঁজিবাজারও। লোকসান কাটিয়ে নতুন বছরকে ঘিরে মুনাফার আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।  খবর ইকোনমিক টাইমস।

সার্বিকভাবে গত বছর খারাপ কাটেনি বিনিয়োগকারীদের কিন্তু শেষের দিকে নোট বাতিলের ধাক্কায় বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের। নোট বাতিলের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ৫০ দিন গত ৩০ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এবার গুছিয়ে নেওয়ার পালা বিনিয়োগকারীদের। এখন বোঝা যাবে, কালোটাকা ধরার চেষ্টায় সরকার যে-পথে হেঁটেছে, তা কতটা সফল।

নোট বাতিলের প্রভাব পড়েছে প্রায় প্রতিটি খাতে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে শেয়ার বাজারেও। তবে ব্যাপক ধস নামেনি। ৮ নভেম্বর সেনসেক্সের সূচকের অবস্থান ছিল ২৭ হাজার ৫৯১ পয়েন্টে। ৫০ দিন ধরে উত্থান-পতনের পরে বছরের শেষ লেনদেনের দিন ৩০ ডিসেম্বর সূচক স্থির হয়েছে ২৬ হাজার ৬২৬ পয়েন্টে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে যে ব্যাপক ধস নামেনি, তার একটিই কারণ। সেটি হলো, ভারতীয় অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তি। নোট বাতিলের প্রতিক্রিয়া শেষ হলেই বাজার ছন্দে ফিরবে এ আশা দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারীরা বাজার ছেড়ে যাননি। নতুন বছরে এটিই বড় আশা তাদের।

সাধারণ মানুষের অনেক আশা এ বছরের বাজেট নিয়েও। বড় নোট বাতিলে সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে মোদি সরকার তা বাজেটে বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে পুষিয়ে দিতে চেষ্টা করবে। মানুষের করের বোঝা কিছুটা লাঘব হলে বাড়বে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল। তাতে উপকৃত হবে শেয়ারবাজার এবং মিউচুয়াল ফান্ড প্রকল্পগুলো। ২০১৬ সালে ব্যাংক-ডাকঘরের জমায় সুদহার অনেকটাই কমেছে। আরও কমতে পারে চলতি বছরেও। বেশি আয়ের আশায় অনেক বিনিয়োগকারীই বিনিয়োগ করবেন শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে। চাহিদা বাড়বে বন্ড, ডিবেঞ্চারেরও। অর্থাৎ সুদনির্ভর মানুষের জন্য নতুন বছরে তেমন আশার জায়গা না থাকলেও শেয়ার ও বন্ডের বাজার চাঙা হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকবে।

এ বছর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এগুলোর মধ্যে রয়েছে

কোম্পানি প্রতিবেদনের ফল: বাজার দেখতে চায়, নোট বাতিলের কতটা প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবসায়। জানুয়ারির মাঝামাঝি শুরু হবে তৃতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এপ্রিল-মে মাসে হাতে আসবে বার্ষিক ফল। দৃষ্টি থাকবে সেখানেও।

কেন্দ্রীয় বাজেট: একমাস এগিয়ে আসছে ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট। আশা করা যায়, এ বাজেট সাধারণ মানুষকে খুশি করবে মোদি সরকার। তবে বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে কী আছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। শেয়ার লেনদেন বাবদ লাভের উপরে কর বসানোর ইঙ্গিত এরই মধ্যে নরেন্দ্র মোদী দিয়ে রেখেছেন।

পণ্যমূল্য এবং সুদহার: ফেব্রুয়ারি মাসে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ঋণনীতি পর্যালোচনা করবে। জানুয়ারিতে পণ্যমূল্য আরও এক ধাপ কমলে সুদহার কমার সম্ভাবনা থাকবে। এটি বাজারের জন্য ভালো খবর হলেও কাম্য নয় সুদনির্ভর মানুষের কাছে।

উত্তরপ্রদেশ এবং পঞ্জাবে নির্বাচন: এ দুই রাজ্যের নির্বাচনের বড় প্রভাব থাকবে বাজেটের ওপর।

বর্ষার পূর্বাভাস: এপ্রিল মাস নাগাদ পাওয়া যেতে পারে এ বারের বর্ষা সম্পর্কে আগাম অনুমান। অর্থনীতি এবং বাজারের ভালো থাকার জন্য ভালো বর্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন এবং ফেড রেট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজকর্ম এবং সে দেশের শীর্ষ ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের গতিবিধির ওপর তীক্ষè নজর থাকবে বাজারের। মার্কিন প্রশাসনের কোনো কোনো সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব থাকতে পারে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর ওপর।

পণ্যসেবা কর (জিএসটি): বাজেট অধিবেশনে যদি জিএসটি বিল পাশ হয়, তবে ১ জুলাই থেকে চালু হতে পারে পরোক্ষ কর-সংক্রান্ত এ নতুন আইন। এ আইনের বেশ বড় মাপের প্রভাব থাকবে শিল্প, ব্যবসা এবং শেয়ারবাজারের ওপর।

অন্যান্য: নতুন বছরে আর যেসব বিষয়ের ওপর নজর থাকবে সেগুলো হলো: ডলারের উথান-পতন, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিদেশি বিনিয়োগ আসা-যাওয়া ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অর্থাৎ নতুন বছরে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে সম্ভাবনাও। এ পরিস্থিতিতে ব্যালান্সড ফান্ডে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। গত পাঁচ বছরে গোটা পাঁচেক ব্যালান্সড ফান্ড গড়ে বছরে কম-বেশি ১৮ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। যেসব শিল্প নতুন বছর ভালো করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সে তালিকায় আছে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সংক্রান্ত, রাস্তা তৈরি ও অবকাঠামো, ব্যাংকিং-বিমা খাত, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধ ইত্যাদি।