প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নোট বাতিলের প্রভাবে দুর্বল হচ্ছে ভারতের পুঁজিবাজার

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতে নোট বাতিলের প্রভাবে পুঁজিবাজারে ব্যাপক ধস না নামলেও বাজারের দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১০০ পয়েন্ট করে হারাচ্ছে সেনসেক্স। নোট বাতিলের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেবেÑএমন অনুমান করেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে বাজারে। ক্রেতা কমেছে, কমছে লেনদেনের পরিমাণ। খবর ইকোনমিক টাইমস।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নোট বাতিলের এ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আরও কমপক্ষে ছয় মাস লাগবে। অর্থাৎ আগামী দুটি ত্রৈমাসিক কোম্পানি প্রতিবেদন বাজারকে তেমন শক্তি জোগাতে পারবে না।

এর আগে আশঙ্কা ছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ালে তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় অর্থনীতির ওপর। কিন্তু শেয়ারবাজারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখে অবশ্য তা মনে হয়নি। মার্কিন শীর্ষ ব্যাংক যে শুধু এই দফায় সুদ বাড়িয়েছে তা-ই নয়, বলা হয়েছে সামনে আসছে আরও সুদবৃদ্ধি এবং তা করা হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে। এই খবরেও কিন্তু বাজার ভেঙে পড়েনি, নতুন করে ধস নামেনি শেয়ার সূচকে।

দেশটিতে নভেম্বরে খুচরা মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশে। গত দুই বছরে এটিই কম মূল্যস্ফীতির হার। এ তথ্যও কিন্তু বাজারে কোনো উত্তেজনা ছড়ায়নি। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হার এতটা কমে এসেছে যতটা না উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে, তার থেকে বেশি নোট বাতিলের প্রভাবে চাহিদা হ্রাসের জন্য। চাহিদা কমে যাওয়া শিল্প ও অর্থনীতির জন্য আদৌ কাম্য নয়। এতে অনেক সংস্থার বিক্রি কমবে, নেমে আসবে মুনাফার পরিমাণ। উৎপাদন কম হলে কর্মসংস্থানও কমবে। কমবে শুল্ক বাবদ কেন্দ্রের আয়। অর্থাৎ আগামী ছয় মাস শক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে মোদি সরকারকে। বাজারও থাকবে অনিশ্চয়তায়। এ সময় প্রতিটি পতনে কেনা যেতে পারে বাছাই করা ব্লু-চিপ ও সম্ভাবনাময় মিড-ক্যাপ শেয়ার। বেশি ঝুঁকি যাদের পছন্দ নয়, তারা ঝুঁকতে পারেন ব্যালান্সড ফান্ড ও ডেট ফান্ডের প্রতি। ছোট মেয়াদে অর্থ রাখা যেতে পারে লিকুইড ফান্ডে।

ফেডের সুদহার বাড়ানোর কারণে ডলারের দাম বাড়ায় ও নোট-কাণ্ডে নগদ অর্থে জোগান তলানিতে ঠেকায় শেয়ারবাজারের তুলনায় বেশি পতন হয়েছে সোনার দামে। মাত্র কয়েক মাস আগে ৩০ হাজারের মধ্যে (প্রতি ১০ গ্রাম) ছিল, তার দাম গত শনিবার নেমে এসেছে ২৭ হাজার ৮৪০ রুপিতে (পাকা সোনা)। গয়নার হলমার্ক সোনা (২২ ক্যারেট) নেমেছে ২৬ হাজার ৮১০ টাকায়। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন গোল্ড ইটিএফ ও গোল্ড বন্ডে লগ্নিকারীরা। ফেড রেট আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় সোনার দাম চড়বে, এটা আশা করা যাচ্ছে না। বরং আরও নামার আশঙ্কাই প্রবল।

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে রফতানিপ্রধান তথ্যপ্রযুক্তির সংস্থাগুলো। তবে খরচ বাড়ছে আমদানিনির্ভর অনেক সংস্থার। বাড়তি খরচ সামাল দিতে বেশ কয়েকটি গাড়ি কোম্পানি ১ জানুয়ারি থেকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ তাদের অনেক যন্ত্রাংশই আমদানি করতে হয়। ফলে গাড়ির চাহিদা হ্রাসের আশঙ্কা প্রবল।

দাম বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের। এটিও দেশটির অর্থনীতির জন্য প্রতিকূল। এর ফলে আমদানি বিল বাড়বে। কিছুদিনের মধ্যে লিটারে আরও ৪-৬ রুপি বাড়তে পারে পেট্রল-ডিজেলের দাম।