প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নোট বাতিলে ভারতের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের ধস না হলেও ভারতের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রতিদিনই সূচক ৮০ থেকে ১০০ পয়েন্ট করে কমছে। বিনিয়োগে আস্থা হারানোর কারণে এ পতন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পুঁজিবাজারে অন্যতম সূচক সেনসেক্সের সূচক কমেছে প্রায় ৩০০ পয়েন্ট। খবর দ্য হিন্দু।

বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাজারে সেনসেক্স সূচক টানা সাত দিনের মতো কমেছে। লেনদেনের সর্বশেষ পর্যায়ে সূচক ছিল ২৬ হাজারের নিচে। অথচ, গত  সেপ্টেম্বরে এ সূচক ২৯ হাজারের উপরে ছিল। ভারতের সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, সেনসেক্স কমার সঙ্গে সঙ্গে আজ পুঁজিবাজারে আরেক সূচক নিফটিও হাজারের ঘর থেকে নিচে নেমেছে। এ নিয়ে টানা সাত দিনে সেনসেক্সের পতন হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। আর মোদি সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর তা কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। এদিকে সম্প্রতি মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধিও পুঁজিবাজারে  নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আরও কমেছে। গত ২০ দিনে তারা ২৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ছেড়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধস না নামলেও বাজারের দুর্বলতা কিন্তু বেশ স্পষ্ট। আসলে এ দুর্বলতা শুধু নোট বাতিলে নয়, সম্প্রতি মার্কিন সুদের হার বাড়ানোর প্রভাবও অনেক শিল্পের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে, আর তা অনুমান করেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে বাজারে। ক্রেতা কমেছে, কমছে লেনদেনের পরিমাণ।

নোট বাতিলের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ আগামী দুই প্রান্তিক কোম্পানি ফলাফল বাজারকে তেমন শক্তি জোগাতে পারবে না। এসএমসি গ্লোবাল সিকিউরিটিজের গবেষণা বিভাগের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈরভ জৈন বলেন,  বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের আপাতত মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। নোট বাতিলের কারণে ডিসেম্বর প্রান্তিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ঘানি আগামী অর্থবছরেও টানতে হতে পারে। মডার্ন শেয়ার ও স্টক ব্রোকার্সের অনিল ম্যাঙ্ঘানি বলেন, নোট বাতিলের নেতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘ হতে পারে। নোট বাতিলের কোর্স কবে শেষ হচ্ছে- বিনিয়োগকারীরা মূলত সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।