দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

নোয়াখালীতে জনপ্রিয় হচ্ছে সূর্যমুখী চাষ

আকাশ মো. জসিম, নোয়খালী: সূর্যমুখীর সৌন্দর্য নজরকাড়ে ফুলপ্রেমীসহ সবাইকে। এ ফুল বাড়িয়ে দেয় কৃষিজমির সৌন্দর্যও। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ দেখে চোখ জুড়াতে তাই আসেন দর্শনার্থীরাও। এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরবাটাসহ বিভিন্ন এলাকায়। এখানে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ।

জেলা কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সূত্রমতে, কম সময় ও স্বল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় কৃষকরা বেশ খুশি। ফুলপ্রেমীদের ধারণা, এ ফুল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, শুধু সুবর্ণচরই নয়, এর চাষ হয়েছে নোয়াখালী পৌরসভা ভবনসংলগ্ন মসজিদ মাঠেও। বাদ পড়েনি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ও।

সূর্যমুখীর নজরকাড়া সৌন্দর্য পুলকিত করে যে কাউকে। তেল হিসেবেও এটি বহুল ব্যবহার করা হয়। বলা হয়ে থাকে, সয়াবিন তেলের চেয়েও সূর্যমুখীর তেল বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন। তেল জাতীয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী বীজে তেলের পরিমাণ ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেশি। আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ায় তাই এ ফসলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সূর্যমুখী চাষে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় আট থেকে ১০ হাজার টাকা। সামান্য রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। আর দুইবার সেচ দিতে হয়। নভেম্বরে বীজ বপনের পর ৮০ থেকে ৯৫ দিনের মধ্যে তোলা যায়। প্রতি এক বিঘায় উৎপাদিত বীজ থেকে আয় হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।

তারা আরও জানান, সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যয়। অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম, সে কারণে লাভ বেশি হওয়ার এ ফুলের চাষ করছেন তারা।

তবে নেতিবাচক কথাও বলেছেন অনেক কৃষক। তারা জানান, দৃষ্টিনন্দন ফুলের টানে মাঠে আসেন অনেক দর্শনার্থী। তারা ছবি তোলার জন্য ভিড় করেন। এতে অনেক সময় নষ্ট হয় ক্ষেত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতিপ্রেমী শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ এ ফসল নষ্ট করবেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আইয়ুব আলী জানান, জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় কিছু ভূমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এ বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এ ফুল চাষ করা হয়নি। মূলত তেল বীজের জন্য এর চাষ করা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ১৫ থেকে ২৫ দিন পরে সূর্যমুখীর ফুলের সৌরভ অনুভব করা যায়। অনুকূল আবহাওয়া ও লবণাক্ত মাটির কারণে এর আশানুরূপ ফলন হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..