দিনের খবর সারা বাংলা

নোয়াখালীতে দিঘি ভরাট করে গড়ে উঠছে বাড়ি মার্কেট

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: নোয়াখালী শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য পুকুর ও দিঘি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোর্ট দিঘি, প্রভাতি দিঘি, জামে মসজিদ দিঘি, প্ল্যাট দিঘি, রশিদ কলোনি দিঘি, সুলতান কলোনি দিঘি, রায় বাহাদুর দিঘি, দত্তবাড়ি দিঘি, ল’ইয়ার্স কলোনি দিঘি, জিলাবোর্ড কলোনি দিঘি ও সোনাপুর কলেজ দিঘিসহ আরও অনেক দিঘি। একেকটি দিঘির মোট আয়তন কমপক্ষে ৮-১০ একর।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব দিঘি একসময় শহরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা পানি সংকট নিরসনে ছিল প্রধান ভরসাস্থল। কিন্তু গত দুই দশকে অধিকাংশ দিঘিই ভরাট ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ভরাট হয়েছে রশিদ কলোনি ও দত্তবাড়ি মোড় এলাকার দিঘি।

জানা যায়, নোয়াখালী শহরকে এক সময় দিঘির শহরও বলা হতো। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে সরকারি অর্থায়নের ছোট-বড় অর্ধশত দিঘি এ শহরকে দিয়েছিল আলাদা স্নিগ্ধতা। শহরকে ধুলাবালি ও আবর্জনামুক্ত রাখতে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রেখেছে এসব দিঘি। অথচ সেই দিঘির শহরেই আগুন লাগার পর পুকুরের খোঁজে হন্য হতে হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে। 

এছাড়া বিপজ্জনক সময়ে শহরের মানুষজনকে পানির জন্য পুকুরের খোঁজে ছুটতে হয় এক মহল্লা থেকে আরেক মহল্লায়। ছুটতে হয় ব্যক্তি পুকুরের ঘাটেও। কারণ গত ১৫-২০ বছরে নোয়াখালীর পুরোনো সব দিঘি একের পর এক ভরাট হয়ে গেছে, যেগুলো বিভিন্ন বিপর্যয় থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিল। বিশেষ করে কোথাও আগুন লাগার পর শহরে পানির জন্য হাহাকারের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

এ বিষয়ে স্থানীয় জামাল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘সরকারি দাগ খতিয়ানে থাকা এসব পুকুর, দিঘি ছাড়াও শহরের অধিকাংশ মসজিদের সামনে ছোট ছোট পুকুর এখন শহরবাসীর কাছে শুধু স্মৃতি। আন্দোলন ও প্রতিবাদ হলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শহরের রশিদ কলোনি দিঘি কয়েক বছর আগে ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে আবাসিক এলাকা। রায় বাহাদুর দিঘির অংশবিশেষ দখল করে বাসাবাড়ি নির্মিত হয়েছে। কিছু দিঘি সংকুচিত হতে হতে পরিণত হয়েছে ছোট ডোবায়। প্রায় প্রত্যেক দিঘিরই ঘটেছে এমন বিপর্যয়। যেগুলোর বিপর্যয় কাটিয়ে এখনও টিকে আছে, সেগুলো আবার সংরক্ষণের অভাবে হয়ে পড়েছে ব্যবহারের অযোগ্য।

নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়–য়া বলেন, ‘পৌরসভা কখনোই দীঘি বা পুকুর ভরাটের অনুমতি দেয় না, বরং উদ্ধারের কাজ করে।’ মামলা জটিলতা, স্থানীয় প্রয়োজন ও মালিকানার কারণে কিছু পুকুর ভরাট হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৮-১০টি পুকুরের গার্ডওয়াল নির্মাণ করেছে পৌরসভা।’

পরিবেশবাদী সংগঠক নুরুল আলম বলেন, ‘শহরের দিঘিগুলো শুধু জলাধার ছিল না। এগুলো ইতিহাসের অংশও। দিঘি ভরাটের মাধ্যমে নোয়াখালীর ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধ্বংস করা হচ্ছে। পরিবেশও নষ্ট করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নোয়াখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল করিম বলেন, ‘অতীতে বারবার আমরা পুকুর বাঁচাতে আন্দোলন করেছি। সরকার ও পৌরসভা হার্ডলাইনে না থাকলে বাদবাকি পুকুর ও দিঘি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..