দিনের খবর সারা বাংলা

নোয়াখালীতে বৃষ্টিতে আমনের ব্যাপক ক্ষতি

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমন বৃষ্টির পানিতে লুটিয়ে পড়েছে। এসব ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক। ফলে লোকসানের মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি আমন ক্ষেত এখন ফসলে ভরা। আমন চাষিদের আশঙ্কা, যেসব ফসল পানিতে লুটিয়ে পড়েছে সেসব ফসল বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে যাবে।

জেলার বিভিন্ন স্থানের আমন চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার চাটখিল, সোনাইমুড়ি, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর, হাতিয়া ও সদর এলাকায় আমন ধান পাক ধরতে শুরু করেছে। এসব উপজেলার নাল জমি সজ্জিত আমন ক্ষেত। তবে আশা জাগানো বাম্পার ফলনের মাঝে বৃষ্টির পানি ও হালকা বাতাসে কাঁচা-পাকা ধানের মাথা ভারি গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় কৃষকরা উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ধান ক্ষেতে কাঁচা-পাকা ধান ও ফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্যে এবার তারা অনেক বেশি আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিষানিদের মুখে শোভা পাচ্ছিল হাসির ঝিলিক। তবে তাদের মথ্যে সার্বক্ষণিক আশঙ্কা, ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগের। শেষে সেই আশঙ্কা সত্যি করে অকাল বৃষ্টিতে তাদের মুখের হাসি ম্লান করে দিয়েছে।

সদর উপজেলার ধর্মপুরের সেলিম মিয়া বলেন, এবার তিনি আমন চাষ করেছেন আড়াই একর জমিতে। তার চাষাবাদ ঋণের টাকায়। জমিতে বাম্পার ফলনের দৃশ্য দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক বয়ে যাওয়া ঝড়ে তার ক্ষেতের ধান এখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাদের হিসাবমতে, নোয়াখালীতে এবার আমন চাষাবাদ হয়েছে গত বছরের রেকর্ডের চেয়েও বেশি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে কৃষকরা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। উৎপাদিত শুকনো ধান পাওয়া যাবে সন্তোষজনক পরিমাণে। আর এই ধান থেকে চাল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেও প্রত্যাশিত।

কৃষি বিভাগের দাবি, অকাল বৃষ্টির মধ্যে যেসব ধান পানিতে লুটিয়ে পড়েছে, সেগুলো আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। তবে ক্ষতি তো হবেই। সরেজমিনে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জানা যায়, এ জেলায় বেশি আমন চাষাবাদ হয়েছে সুবর্ণচর, কবিরহাট, সদর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। এসব এলাকার নাল জমি এখন কাঁচা পাকা ধানে ভরপুর। তুলনামূলকভাবে চাষাবাদ কম হয়েছে চাটখিল, সোনাইমুড়ি, সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ এলাকায়। যেটুকু জমিতে আমন চাষা হয়েছে সব জমিতে দেখা যায় বাম্পার ফলন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. আবুল হোসেন বলেছেন, ‘জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থায়ী পতিত জমির পরিমাণও অনেক রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে এসব পতিত জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ করতে চান না। সুবর্ণচরের বিভিন্ন এলাকায় আমনের পাশাপাশি কৃষকরা জমিতে মৌসুমি সবজি চাষ করেছেন। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, কচু, ঢেঁড়স, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। বৃষ্টিতে এ ধরনের  ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা কম।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..