সারা বাংলা

নোয়াখালীতে বেড়েই চলেছে সবজির দাম

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: নোয়াখালীর বাজার শীতকালীন সবজিতে ভরে গেলেও দাম না কমে বেড়েই চলেছে। বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু, লাউ, জালিকুমড়া ও সব ধরনের শাক। গত সপ্তাহে পরিবহন ধর্মঘটের অজুহাতে সবজির দাম বাড়লেও তা আর কমেনি। সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও চড়া সবজির বাজার। আর এর প্রভাব পড়ছে জেলার রেস্টুরেন্টগুলোতেও। মাইজদীর টকিও কাবার, আলিফ হোটেলসহ একাধিক হোটেলে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে ১০ টাকার খাবারের দাম নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা হারে।

গত শনিবার সোনাপুর, মাইজদী পৌরবাজার ও দত্তের হাট ঘুরে এসব চিত্র দেখা  গেছে। গত ক’দিন ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে সবজির দাম বাড়িয়ে দেন। এর পর থেকে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। এসব বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি শিম (কালো) বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়, শিম (সাদা) ৮০ টাকা, গাজর (ফ্র্রেশ) ৯০ থেকে ১১০ টাকা, গাজর রেগুলার ৮০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, ঝিঙে ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন আকারভেদে ৫০ থেকে ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ক্ষীরা ৯০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ প্রতিকেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।

এছাড়া আকারভেদে প্রতিটি বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় ও জালিকুমড়া ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। বাজারে নতুন আলু এলেও সব ধরনের আলু চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। পুরোনো আলু ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং নতুন আলু (আকারভেদে) ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে পর্যাপ্ত সবজি থাকলেও দাম না কমায় প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। এ বিষয়ে সোনাপুর বাজারের ক্রেতা শিফিকা আক্তার বলেন, গত সপ্তাহে নানা কারণ দেখিয়ে বাজারে সব সবজির দাম বাড়ানো হয়। আজও দেখি সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি, অথচ বাজারে কোনো কিছুর ঘাটতি নেই। বাজারে শুধু সবজি কিনতে গেলে হাজার টাকায়ও কুলায় না।

এ বাজারের আরেক ক্রেতা জিয়া উদ্দিন বলেন, বর্তমানে কোনো কিছুর দাম একবার বেড়ে গেলে তা আর সহজে কমে না। দেশে এখন ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে শক্তিশালী, তারা সবকিছুর দাম ঠিক করে দেন। শুধু সবজি কেন পেঁয়াজ ও চালের বাজারের পরিস্থিতিও একই।

পৌরবাজারের সবজি বিক্রেতা মিজান রহমান বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে বাড়তি। পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরাতেও কমে। তবে শীতে সব সবজি বাজারে এলে দাম কমে আসবে।

এদিকে বাজারে প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১২০০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া কাচকি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, মলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছোটপুঁটি (তাজা) ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, বাগদা ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, কইমাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং কাতল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে বাজারে ডিম, মুরগি ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি বয়লার ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, লেয়ার ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ও সাদা লেয়ার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১০০ টাকা, সাদা ৯৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৪৫ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৮০ টাকা, ছাগলের মাংস ৭২০ টাকা কেজি দরে।

এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান বলেন,  কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালীর ডিসির সঙ্গে কথা বলবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..