সারা বাংলা

নোয়াখালী হাউজিং এস্টেটে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: নোয়াখালী হাউজিং এস্টেটে আবাসিক প্লট বরাদ্দের লটারিতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠেছে। ২৭১টি প্লটের মধ্যে ১১৪টি প্লটের লটারি শেষে বাকিগুলোয় ভাগাভাগি হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও সহকারী প্রকৌশলী নোয়াখালী হাউজিং এস্টেটকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জানা গেছে, ২০১০ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে মাইজদী নোয়াখালী হাউজিং এস্টেটে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের লোকদের জন্য আবাসিক প্লট বরাদ্দের প্রসপেক্টাস ও আবেদনপত্র প্রকাশ করে। প্রকাশিত প্রসপেক্টাস ও আবেদনপত্রে সাত দশমিক ১৫ কাঠার একটি, পাঁচ কাঠার ২৭টি, চার দশমিক ৫০ কাঠার দুটি, চার কাঠার ১৫টি, তিন দশমিক ৫০ কাঠার ২৫টি, তিন কাঠার ১৬৪টি, দুই দশমিক ৫০ কাঠার ২৯টি এবং দুই কাঠার আটটিসহ সর্বমোট ২৭১টি প্লট রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত লটারিতে দেখা যায়, পাঁচ কাঠার ২৭টি প্লটের মধ্যে ১৫টি, তিন কাঠার ১৬৪টি প্লটের মধ্যে ৬৭টি, তিন দশমিক ৫০ কাঠার ২৫টির মধ্যে ১১টি, চার কাঠার ১৫টি প্লটের মধ্যে পাঁচটি, দুই দশমিক ৫০ কাঠার ২৯টি প্লটের মধ্যে ১০টি, দুই কাঠার আটটি প্লটের মধ্যে ছয়টি প্লটের লটারি অনুষ্ঠিত হয়। সাত দশমিক ১৫ ও চার দশমিক ৫০ কাঠা আকারের প্লটের লটারি আদৌ অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রসপেক্টাস ও আবেদনপত্রে ২৭১টি প্লটের কথা উল্লেখ থাকলেও মাত্র ১১৪টি প্লটের লটারির অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ১৫৭টি প্লটের কোনো লটারিই অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও সহকারী প্রকৌশলী নোয়াখালী হাউজিং এস্টেটকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সচিব অথবা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের নির্দেশের কোনো প্রকার জবাব না দিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদানকারীদের প্লটগুলো বেচা-বিক্রি ও বাড়ি নির্মাণে সহযোগিতা করছেন বলে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বশেষ..