সারা বাংলা

নোয়াখালীতে শতাধিক অবৈধ বেকারি

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: নোয়াখালী জেলায় শতাধিক অবৈধ বেকারিতে তৈরি হচ্ছে মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর পণ্য। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এসব বেকারি অস্বাস্থ্যকর পণ্য তৈরি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে দেদার বাজারজাত করছে। এসব খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভাসহ শহরতলির আশেপাশ এবং কবিরহাট, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও হাতিয়া এলাকার আনাচে-কানাচে এ ধরনের অসংখ্য বেকারি গড়ে উঠেছে। সরকারি অনুমতি ছাড়াই এমন শতাধিক বেকারি মানহীন পণ্য উদপাদন করে বাজারজাত করছে। এসব বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, চানাচুর, কেক, পাউরুটি, মিষ্টি, সন্দেশ। পাড়া-মহল্লার দোকান থেকে শুরু করে নামিদামি দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এসব বেকারির বাহারি মুখরোচক খাবার। পৌরসভায় বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হলেও বেকারিতে তৈরি এসব পণ্য আওতামুক্ত থাকছে।
কয়েকটি বেকারিতে গিয়ে দেখা যায়, স্যাঁতসেঁতে নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অবাধে তৈরি করা হচ্ছে বেকারির পণ্যসামগ্রী। আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নানা ধরনের তৈরি পণ্য। শ্রমিকরা খালি পায়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছেন। এ সময় তাদের গা থেকে ঘাম ঝরতে দেখা গেছে। আটা-ময়দা প্রক্রিয়াজাত করানো কড়াইগুলোও অপরিষ্কার ও নোংরা। ডালডা দিয়ে তৈরি করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ছাড়াই বাহারি মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারিসামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। পৌরসভার বাইরে এসব বেকারির অবস্থান হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা এসব খাবারসামগ্রী খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। পেট ব্যথা, শরীর দুর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
অবৈধ বেকারির এক কর্মচারী জানান, দিনের বেলায় তারা কোনো পণ্য উৎপাদন করেন না। রাতে শুরু করে ফজরের আগেই পণ্য উৎপাদন শেষ হয়ে যায়। রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের ঝামেলা কম বলেই পণ্য উৎপাদন রাতেই শেষ করে থাকে।
পৌরসভার সোনাপুর এলাকার এক চা দোকানি রিয়াজ উদ্দিন জানান, তারা গরিব মানুষ, ফুটপাতে চা পান বিক্রি করে সংসার চালান। উৎপাদনের তারিখ দেখার সময় নেই। ক্রেতারা তো আর এসব জিজ্ঞাসা করেন না। প্যাকেট থেকে কোনোমতে তুলে চা বা কলা দিয়ে খেতে ওসব বেকারি সামগ্রী কিনে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তš§য় দাস জানান, বেকারির যদি বিএসটিআই থেকে অনুমোদন না থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সব ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভেজাল খাদ্য সরবরাহ ও প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ..