মত-বিশ্লেষণ

নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের নিরাপত্তা এবং কর্তৃপক্ষের দায়

তৌহিদুর রহমান: দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলায় বাড়ি হওয়ায় পথিমধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে আমার মতো ওই অঞ্চলের আরও অনেককে পার হতে হয়েছে অসংখ্যবার। ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত আরও অসংখ্যবার পার হতে হবে, সেটাও সত্য। শুধু আমি নই, পরিচিত আরও অনেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে নিয়মিত ফেরি পার হন। সেক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শোনা হয় প্রায়ই। বিশেষত ঈদের সময় ঘাটের পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা অনেকেরই জানা। গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশের অন্যপ্রান্তের মানুষেরও পরিস্থিতি বলতে গেলে নখদর্পণে। শুধু ফেরি নয়, লঞ্চের পাশাপাশি স্পিডবোটেও তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই রওনা হয় অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির এ যানগুলো।

ফেরি ও লঞ্চ নৌরুটের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নৌযান হলেও মাত্র কয়েক বছর আগে স্পিডবোট যুক্ত হয়েছে। উত্তাল পদ্মায় এ ধরনের যান চলাচলের সুযোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শুরু থেকেই। সে সময় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, দিন দিন তা বাড়ছেই। যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তাদের মধ্যে যেন অনেকটা গা-ছাড়া ভাব। আর মালিক-চালকরা বাড়তি যাত্রী থাকার সুযোগ নেওয়ায় স্পিডবোট চলাচলও ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে শুধু নৌপথে ঝুঁকি বাড়ছে তা কিন্তু নয়, জীবনহানি-সম্পদহানির ঘটনাও বাড়ছে। তার পরও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এটি কিন্তু মুখের কথা নয়, বাস্তবতা।

ওই রুটে চলাচলকারী কয়েকজনের সঙ্গেই কথা হয়েছে বিষয়গুলো নিয়ে। মাওয়া ফেরিঘাট হয়ে চলাচল করেন, পরিচিত এমন একজন একটি ঘটনার যে বিবরণ দিচ্ছিলেন, তা রীতিমতো রোমহর্ষক। সেদিন খুব সম্ভবত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তা উপেক্ষা করেই যাত্রী নিয়ে রওনা হয় একটি স্পিডবোট। তবে মাঝনদীতে পৌঁছার আগেই দিক হারিয়ে ফেলে সেটি। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। সেখান থেকে কোনোমতে ঘাটে খবর পৌঁছালে আরও দু-তিনটি স্পিডবোট গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। অবশ্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার যে ইতিহাস তাতে বলা চলেÑএমন ঘটনা হয়তো প্রতিনিয়তই ঘটে, কিন্তু প্রকাশ্যে আসে সামান্যই।

একটি গণমাধ্যমের খবর বলছে, শিমুলিয়া ঘাটে ২২০টি ও কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ২০০টি স্পিডবোট রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি স্পিডবোটের নিবন্ধন রয়েছে। আর বাকি যেগুলো চলে সেগুলোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তো রয়েছেই, অদক্ষ চালকের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনাও। নিবন্ধনকৃত ও অনিবন্ধিত সব স্পিডবোটে প্রায়ই পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট থাকে না। অনেক সময় মাঝ পদ্মায় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারেও চালানো হয়। স্পিডবোট উল্টে অনেকেই নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন, যার পরিসংখ্যান অনেক সময় হয়তো সামনেও আসে না। ফলে মাঝ নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানের যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটছে তা অনেক সময় হয়তো জানার সুযোগ হয় না।

গুরুতর ব্যাপার হলো, স্পিডবোটের সংখ্যা ক্রমেই বাড়লেও ঘাট নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। ফেরি ও লঞ্চঘাটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রায়ই দায় এড়িয়ে যেতে চায়। এমনকি ফিটনেস পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি অদক্ষ চালক দিয়ে চালানো হয় এসব স্পিডবোট। ফলে যাত্রীরা জীবন হাতে নিয়ে স্পিডবোটে চলাচল করেন, তা বললেও সম্ভবত ভুল হবে না। তার পরও এ ধরনের যান চলাচলে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

শুধু স্পিডবোট চলাচলেই যে নৌপথে ঝুঁকি বাড়ছে, তা কিন্তু নয়। অন্যান্য আরও অনেক যানবাহনই নৌপথে ক্রমেই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির সব খাতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অনেক। সে কারণে বন্দরটি যাতে সব সময় পূর্ণ ব্যবহারোপযোগী রাখা যায়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বন্দরে ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ চলাচলেও সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে। অথচ এসব নিয়ম উপেক্ষা করে জাহাজ চলাচলের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের আশেপাশের জলসীমা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাহাজডুবিসহ নানা কারণে নাব্যসংকটও তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সীমিত সময়ের মধ্যেই বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শুধু এখানেই শেষ নয়। বন্দর এলাকায় উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে অনিয়ন্ত্রিত বাল্কহেডের চলাচল। ছোট জাহাজ ও ক্ষুদ্রাকৃতির এসব নৌযান যেখানে সমুদ্রপথে চলাচল করারই কথা নয়, সেখানে কয়লা, তেলসহ নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যও পরিবহন করা হচ্ছে। অথচ বালিজাতীয় পণ্য পরিবহনে বাল্কহেড তৈরি করা হয়, ছোট ধরনের কোনো দুর্ঘটনাতেও যা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে; হচ্ছেও। গত অক্টোবরের শেষ দিকে একটি অয়েল ট্যাংকারের সঙ্গে লাইটার জাহাজের সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণ ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ে কর্ণফুলী নদীতে। পরে অবশ্য দূষণ রোধ করতে তেল তুলে নেওয়া হয়। এর আগে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতেও ঘটেছে এমন দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনা সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের জন্য কতটা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে, তা কারও অজানা নয়। জাহাজ ও বাল্কহেড তৈরির ক্ষেত্রেও মানা হয় না নিয়ম।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিভোয়া) তথ্যমতে, দেশে বাল্কহেড আছে প্রায় তিন হাজার। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের কারিগরি নকশা ছাড়াই মিস্ত্রি ও ওয়েল্ডারের হাতে এসব বাল্কহেড নির্মাণ করা হচ্ছে। আরও গুরুতর ব্যাপার হলো, অনুমোদন ছাড়াই এগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এমনকি কিছু বাল্কহেড বালির মতো পণ্য পরিবহনের উপযোগী করে তৈরি করা হলেও পরে তার নকশায় সামান্য পরিবর্তন এনে তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। অথচ তেল পরিবহনে দ্বিস্তরের কাঠামো থাকার কথা, সেখানে এগুলো মাত্র এক স্তরের। ফলে দুর্ঘটনার কারণে এগুলো ফেটে গেলে বা ফুঁটো হলে পুরো তেলই পানিতে মিশে যাবে। ফলাফলও যা হওয়ার তা-ই হবে। কর্ণফুলীতে ওই জাহাজ দুর্ঘটনায় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে শুধু জরিমানা এমন দুর্ঘটনার সমাধান নয়, আগে থেকেই রোধ করা জরুরি।

দেশে ছোট-বড় কয়েকশ নদী রয়েছে, যা আমাদের দিয়েছে ২৪ হাজার কিলোমিটারের অধিক নদীপথ। এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশে যা বিরাট পাওয়া, সন্দেহ নেই। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে নদীকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি হাজার হাজার যাত্রী সেবা পাচ্ছেন নদীপথে। উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, বিদ্যমান নদীপথে নৌযান ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করায় জীবনহানি ও সম্পদহানি বাড়ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে, যা কাম্য নয়। জীবনহানি ও সম্পদহানি বন্ধ করতে হলে অবিলম্বে নৌপথে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

এদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নৌযান চলাচলের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে, তা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। তবে যেভাবে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে নৌপথে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। নৌযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সে লক্ষ্যে ফিটনেস পরীক্ষা করে নৌপথে চলাচলের উপযোগী স্পিডবোটের অনুমোদন দিতে হবে। শুধু স্পিডবোট নয়, সব ধরনের যানেই এটি নিশ্চিত করতে হবে। কয়েক দিন আগেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, বিশালাকৃতির একটি লঞ্চ চরে উঠিয়ে দেন অদক্ষ চালক। কয়েক ঘণ্টা সেটি চরে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অথচ লঞ্চটি নির্মাণগতভাবে ছিল যথেষ্ট নিরাপদ।

অদক্ষ চালকের হাতে এ ধরনের স্পর্শকাতর যানের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মালিকরা যাতে চালকের দক্ষতা নিশ্চিত হয়ে তবেই নিয়োগ দেন, সে ব্যাপারে তাদের বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি নিবন্ধনসহ সব ধরনের নৌযান চলাচলের দায়িত্ব দিতে হবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে, যারা দক্ষতার সঙ্গে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন। তবে বড় সমস্যা হলো, আরও অনেক খাতের মতো এখানেও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ দিতে হবে। অতীতে লঞ্চ দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আমরা দেখেছি। আশার কথা, সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেক কমেছে। সেটি কিন্তু সরকারের নানা ধরনের কার্যকর পদক্ষেপের কারণেই সম্ভব হয়েছে। এখন স্পিডবোটের কারণে যেন একই পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, সেটিই কিন্তু সবার প্রত্যাশা।

আর সমুদ্র এলাকা কিংবা গভীর নদীতে বাল্কহেডের মতো নৌযান ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পরিবেশের জন্যও এটি ভালো খবর নয়, কারণ এতে যে ধরনের পণ্য পরিবহন হয়, সেগুলো নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়লে তা পরিবেশ কিংবা জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি তৈরি করে। সেজন্য এ ব্যাপারে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আরও অনেক খাতের মতো নৌপরিবহন খাতেও অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। সেজন্য নৌ-চলাচল নিরাপদ করার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কারোর অনিয়ম-দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান বাল্কহেডগুলো পরীক্ষা করে বৈধগুলোর চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।

সমুদ্রে বাল্কহেডজাতীয় ছোট নৌযান চলাচল ভালো খবর নয়, তাই অগভীর সমুদ্রে লাইটার জাহাজ ও গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া বিদ্যমান তেলবাহী ট্যাংকার কিংবা রাসায়নিক দ্রব্যবাহী জাহাজগুলো এ ধরনের পণ্য পরিবহনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করছে কি না, তা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও শর্ত পূরণের ব্যাপারে কঠোর হওয়া প্রয়োজন। অতীতে তেল, কয়লা, রাসায়নিক দ্রব্য কিংবা ক্লিংকারের মতো দূষণকারী পণ্যবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লেও সংশ্লিষ্টদের টনক নড়েনি। সেক্ষেত্রে এ ধরনের জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।

প্রচলিত তথ্যমতে, এদেশে অধিকাংশ ডকইয়ার্ডে ওয়েল্ডিং মেশিন কিংবা হাতুড়িজাতীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই জাহাজ তৈরি করে ফেলা হয়। অনেক সময় নিয়মনীতি কিংবা নকশার মতো বিষয়েরও কোনো তোয়াক্কা করা হয় না। ফলে এসব ডকইয়ার্ডে তৈরি কোনো নৌযান যখন পানিতে নামে, তা ঝুঁকি ছাড়া নিশ্চয়ই আর কিছু তৈরি করবে না। অথচ বছর খানেক আগেও এদেশের জাহাজশিল্প দারুণ আশাজাগানিয়া ছিল। রপ্তানির ভালো একটি খাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে সে অবস্থা আর নেই, অনেকটা খেই হারিয়েছে খাতটি। এসব অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড সেক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বললেও সম্ভবত ভুল হবে না।

আর্থ-সামাজিক নানা ক্ষেত্রে নৌযান ও নৌপথের ভূমিকা অনেক। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাতেও এর ভূমিকা আছে। কারণ নৌপথে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা অন্য কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করে, জীবনহানির পাশাপাশি ব্যাপক সম্পদহানিরও কারণ হয়। সেজন্য নৌপথে নিরাপদ নৌযান চলাচলের বিকল্প আসলে কিছু নেই। সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের; আরও নির্দিষ্ট করে বললে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অর্থলোভী নৌযান মালিক ও চালকদেরও। এসব কিছু নিশ্চিত করতে পারলেই নিরাপদ হয়ে উঠবে নৌযান ও নৌপথ। তবে সবার আগে নৌপথে সেবা নেওয়া মানুষকেও সচেতন হতে হবে। তা না হলে যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, তা কখনোই কাজে আসবে না।

গণমাধ্যমকর্মী

touhiddu.rahman1Ñgmail.com

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..