সম্পাদকীয়

নৌযান চালকদের পেশাদারি নিশ্চিত করুন

নদীমাতৃক দেশ হিসেবে যোগাযোগ ও পরিবহনে দেশে জলপথের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা-উত্তরকালে থেকেই নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং কার্যকর নৌ-চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নৌ-সংক্রান্ত আইন-কানুন প্রণয়ন, প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহাজ পরিদর্শন, জরিপ, নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও নৌ-ব্যবস্থাপনা পরিচালনাসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্ঘটনামুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিতকরণ ও নৌ-বাণিজ্যিক স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে কাজ করছে।  আমাদের নাবিক-প্রকৌশলীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।

গতকাল শেয়ার বিজে ‘বুড়িগঙ্গা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলেই ধারণা।

খবরে প্রকাশ, সোমবার সকালে ঢাকার সদরঘাটে বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি মর্নিং বার্ড উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসছিল উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। প্রত্যয়ের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা সেতুতে ফাটল ধরে। উদ্ধারকারী জাহাজটির সেন্সরসহ বিভিন্ন যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সেটি উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেনি। সেটিকে নদীতেই নোঙর করে রাখা হয়। ওইদিন রাতেই বুড়িগঙ্গা সেতুতে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর মঙ্গলবার সওজের বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করার পর সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। ফলে আপাতত ভারী যান চলাচল বন্ধ।

নদীপথে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু উদ্ধারকারী নৌযান দুর্ঘটনাস্থলে যেতে নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে আবার সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলবে, এটি মেনে নেওয়া যায় না। ৩০ বছর আগে ঘূর্ণিঝড়ে নোঙর ছিঁড়ে কর্ণফুলী সেতুকে আঘাত করেছিল উদ্ধারকারী জাহাজ শক্তিমান। ওই সময় ওই সেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমওর) হওয়ায় এভাবে নৌযান দুর্ঘটনা সংস্থাটির কাছেও আমাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সহযোগী একটি দৈনিককে বলেছেন, ‘ওভারনাইট কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কিন্তু নৌপরিবহন সেক্টরে অনেক সুপারিশ বাস্তবায়ন করছি। আনফিট লঞ্চ আস্তে আস্তে ক্লোজ করে ফেলছি। সেক্টরটি একটি সিস্টেমে আনা হবে।’ আমরা মনে করি, নৌপরিবহন খাতে সরকারের মনোযোগ বাড়ানো উচিত। আমাদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো দায় এড়িয়ে যাওয়া কার আমলে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটির বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত ৪৪ বছরে ৭৩২টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১০ হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ৫৩২টি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। সত্য তথ্য হলো, এসব তদন্ত কমিটির কোনো সুপারিশই বাস্তবায়িত হয়নি। বেশিরভাগ কমিটির প্রতিবেদনই অপ্রকাশিত থেকে গেছে। তাই শাস্তিও পান না দায়ী ব্যক্তিরা। দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষী মালিকের লঞ্চের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং অবশ্যই নাবিক, মাস্টার ও চালকদের পেশাদারি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..