প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নৌযান-ফেরি পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা কাম্য

পদ্মা সেতুর পিলারে এক মাসে চারবার ফেরির ধাক্কার ঘটনায় চালক-সুকানিসহ দায়িত্বশীলদের অসতর্কতা ও নদীর তীব্র স্রোতকে দায়ী করা হয়। ওই সময় সিদ্ধান্ত হয় স্রোত বেশি হলে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। কোনো ফেরিকে সামান্যতম ত্রুটি নিয়ে চালানোর অনুমতি দেয়া হবে না। নদীতে স্রোতের গতি প্রতি সেকেন্ডে দুই মিটার বা এর বেশি হলে ফেরি চালানো বন্ধ রাখতে হবে। গত ১৩ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, পদ্মা সেতু প্রকল্প ও বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে এ নিদ্ধান্ত হয়। এই কড়াকড়ির ফলে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরির ওপর চাপ কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ বেশি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন তথ্যে উঠে এসেছে, কেবল সুকানিসহ দায়িত্বশীলদের অসতর্কতা ও তীব্র স্রোত নয়, নদীপথে চলাচলকারী সব ফেরিই মেয়াদোত্তীর্ণ। পদ্মা সেতুর পিলারে যে চারটি ফেরি ধাক্কা দিয়েছিল তার একটিরও হালনাগাদ ‘ফিটনেস’ সনদ ছিল না। ওই ফেরিগুলো নৌপথে চলার কথা নয়। অনেকের অভিযোগ, সরকারি সংস্থা ফেরি পরিচালনা করে বলে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাটুরিয়ায় ৫ নম্বর ফেরিঘাটে বেশ কয়েকটি যানবাহনসহ পদ্মায় হেলে পড়েছে শাহ আমানত নামের একটি ফেরি। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় নদী পার হয়ে পাটুরিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই ফেরিটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

দুর্ঘটনায় একটি বিষয় নতুন করে সামনে এসেছে ফেরি চালানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় বিআইডব্লিউটিসি সনদ না নিয়েই ফেরি চালাচ্ছে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ নয়, সারাদেশে বিআইডব্লিউটিসি যে ৫৩টি ফেরি চালায়, তার ৪৭টিরই হালনাগাদ ফিটনেস সনদ নেই। জীবনকাল পেরিয়ে গেছে ২০টির। এর মধ্যে পাঁচটির বয়স ৯৫ বছর। বুধবার ডুবে যাওয়া ফেরিটিরও বয়স ছিল ৪২ বছর।

অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী দেশের নৌপথে কোনো নৌযান ৪০ বছর পর্যন্ত চলাচল করতে পারে। শুরুতে নিবন্ধনের মেয়াদ হয় ৩০ বছর। দেশে বর্তমানে ছয়টি রুটে ফেরি চলে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, আরিচা-পাটুরিয়া, আরিচা-কাজীরহাট, চাঁদপুর-শরীয়তপুর, লাহারহাট-ভেদুরিয়া এবং ভোলা-লক্ষ্মীপুর।

পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ফেরির আঘাত হানা পর ফেরির কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছে। নাশকতা কি না, তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসল সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলোয় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে, অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ ফেরিগুলো জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে চালু রাখা হয়েছে। প্রায়ই মাঝনদীতে এসব ফেরির ইঞ্জিন বিকল হয়। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

কোনো ফেরিকে সামান্যতম ত্রুটি নিয়ে চালানোর অনুমতি দেয়া হবে না। অথচ এখন দাঁড়িয়ে থাকা ফেরি ডুবে যায়; এটি দুঃখজনক। আইন অনুযায়ী কোনো নৌযান ফিটনেস সনদ না নিয়ে বা নিবন্ধন ছাড়া চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিন্তু ফেরির বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে তো তা করতে হবে বিআইডব্লিউটিসির বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় বিআইডব্লিউটিসি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।