বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার পুরোদমে চলছে পণ্য খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বৈরী আবহাওয়া, ভারি বৃষ্টির কারণে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর ফের শ্রমিকদের হাঁকডাকে উৎসবমুখর হয়ে উঠছে কর্ণফুলী নদীর ঘাটগুলো। লাইটার জাহাজ থেকে বস্তা ভরে ক্রেনের সাহায্যে নদীপাড়ে আনলোড করা হচ্ছে গম, ডালসহ বিভিন্ন পণ্য। গতকাল শনিবার সকালে মাঝিরঘাট, আনুমাঝির ঘাট, বাংলাবাজার ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদেশ থেকে গম, সার, ডাল, চিনি, সাদা মোটর, পাথর, কয়লা, সø্যাগ, বল ক্লে, লাইম স্টোন, জিপসাম, সিমেন্ট ক্লিংকার প্রভৃতি খোলাপণ্য নিয়ে আসা বড় জাহাজ থেকে খালাস করা হয় লাইটার (ছোট) জাহাজে করে। এসব লাইটার জাহাজ চার দিন বন্ধ থাকার পর ফের বহির্নোঙরে যাচ্ছে গতকাল সকাল থেকে। কারণ কর্ণফুলী নদীর ড্রাফট কম থাকায় এসব বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরের মূল জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে বহির্নোঙরে (সাগরে) অপেক্ষমাণ থাকাবস্থায় ছোট ছোট জাহাজে ক্রেনের সাহায্যে এসব বড় জাহাজের পণ্য খালাস করা হয়। তারপর বিভিন্ন নদীবন্দর, শিল্প কারখানার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় নদীপথে। 

সকালে বাংলাবাজার এলাকায় একাধিক লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মালিকপক্ষ আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। আর বৃষ্টি থাকায় আমরা চার দিন কাজ করতে পারিনি। আজ থেকে আবার কাজ পেলাম। অপরদিকে একজন জাহাজ মালিকরা জানান, বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ তিনটি বড় জাহাজের কাছে আমাদের ছয়টি লাইটার জাহাজ ভিড়েছে। জোয়ারের পর সাগর শান্ত হলেই লাইটারিং শুরু হবে। সাগর উত্তাল হলে বিদেশি জাহাজের পাইলট, ক্যাপ্টেনরা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় লাইটারিংয়ের অনুমতি দেন না। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, কর্মবিরতির আগে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ছিল ৭৬টি জাহাজ। এর মধ্যে খারাস কাজ চলছিল ৫৮টি এবং কাজ অযোগ্য জাহাজ ছিল ১৮টি। অপরদিকে চার দিন বন্ধ থাকায় বহির্নোঙরে জাহাজের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৯টি। এর মধ্যে মাত্র ১২টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলছে। একই সময়ে অপেক্ষামাণ জাহাজ ছিল ৬৭টি।

ঘাট গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, সকাল থেকে পুরোদ্যমে কর্ণফুলীর ১৬ ঘাটে কাজ চলছে। নৌযান ও লাইটার শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তিন দিন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩-৪ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে আরও এক দিন লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ মো. ইছা মিয়া বলেন, কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর সাগর উত্তাল ও ভারি বর্ষণের কারণে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে যেতে পারেনি লাইটার জাহাজগুলো। ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের সিরিয়াল নিয়ে রাখা বড় লাইটার জাহাজগুলো শনিবার সকাল থেকে রওনা হয়েছে। বিকাল থেকে লাইটারিং শুরু হয়েছে। 

উল্লেখ, বন্দরে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত গম, ভুট্টা, ডাল, সার, চিনি, সিমেন্ট ক্লিংকার, পাথর, কয়লা প্রভৃতি পরিবহনে প্রায় দুই হাজার লাইটার জাহাজ আছে। আর ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল পরিবহনে পাঁচ শতাধিক অয়েল ট্যানকার আছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..