প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ন্যাচারাল রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন: বৈশ্বিক উষ্ণতা এক ডিগ্রি বাড়লে গম উৎপাদন কমবে ৬ শতাংশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা যত বাড়বে, গম উৎপাদন তত কমবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বৃদ্ধিতে গমের উৎপাদন কমবে ৬ শতাংশ করে। এমনকি উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যশস্যের পুষ্টিগত মানও কমবে। খবর রয়টার্স, কমোডিটি অনলাইন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাচারাল রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট ফিনল্যান্ড প্রকাশিত ‘রাইজিং টেম্পারেচার্স রিডিউস গ্লোবাল হোয়ায়েট প্রোডাকশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে ।

বর্তমান বিশ্বে গম উৎপাদন হয় বছরে প্রায় ৭২০ মিলিয়ন টন, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ ক্যালরির চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস  বৃদ্ধিতে গম উৎপাদন ৬ শতাংশ করে কমলে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন বছরে কমবে ৪২ মিলিয়ন টন

এ অবস্থায় খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়াতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ-খাওয়ানো পদ্ধতির বিকল্প নেই। অর্থাৎ উষ্ণতার সঙ্গে খাপ খায়, শস্য উৎপাদন পদ্ধতিতে সেভাবে করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের সব মুখে খাদ্য তুলে দিতে হলে খাদ্য উৎপাদন ৬০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

এদিকে, আগামী বছর বিশ্বে গম উৎপাদন কিছুটা কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের রেকর্ড উৎপাদন থেকে এ বছর গম উৎপাদন ১ শতাংশ কমবে।

সংস্থা জানায়, উত্তর হ্যাম্পশায়ার অঞ্চলে শীতকালীন গমের আবাদ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চলতি বছর গম উৎপাদনের সাম্ভব্য লক্ষ্যমাত্রা ৭২৪ মিলিয়ন টন। যা গত বছরের চেয়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১০ লাখ মিলিয়ন টন কম।

চলতি মৌসুমে ভালো উৎপাদন হলেও আগামী মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্য এশিয়ায় উৎপাদন কমবে। এফএও জানায়, ২০১৫-১৬ সালে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় ২ দশমিক ৫৪২ বিলিয়ন টন, যা ২০১৪-১৫ সালের চেয়ে ২০ মিলিয়ন টন বা ১ শতাংশ বেশি। পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৫-১৬ মৌসুমে বিশ্বে ১ দশমিক ১০৭ বিলিয়ন টন খাদ্যশস্য ব্যবহার হবে। যার মধ্যে ৮৭৭ মিলিয়ন টন খাদ্য গবাদিপশুর জন্য ব্যবহার হবে।

এদিকে রয়টার্সের জরিপে ওঠে এসেছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় গম উৎপাদন কমে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের ব্যাপক বৃষ্টিতে ভালোমানের গম উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে গম রফতানিও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

বিশ্বের ষষ্ঠ শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া। ২০১৫-১৬ মৌসুমের চেয়ে এবারে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন কমলেও গত মাসের চেয়ে এর উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। চলতি মৌসুমে দেশটিতে দুই কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে ২০১৬-১৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় দুই কোটি ৮১ লাখ টন গম উৎপাদনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০১০-১১ মৌসুমে দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থাৎ তিন কোটি টন গম উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় গম উৎপাদনের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজমান ছিল। তবে পূর্ব উপকূলে বৃষ্টি এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অসময়ে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় দেশটিতে শস্যটির উৎপাদন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।

সিডনির আইকেওএস কমোডিটিজের বিশ্লেষক ওলে হাউজ বলেন, শীতল আবহাওয়ায়  পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় গম উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ লাখ টন কম হতে পারে। অন্যদিকে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরিয়ায় একই সময় পণ্যটির উৎপাদন ৩০ লাখ টনের মতো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওলে হাউজ আরও বলেন, চলতি মৌসুমে দুই কোটি ৫৭ লাখ টন গম উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে চলতি মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদিত গমের ৯ শতাংশ পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহƒত হবে। গত মৌসুমের চেয়ে এর পরিমাণ ২ শতাংশ বেশি বলে প্রোফার্মারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হান্না জনসন জানিয়েছেন। তিনি চলতি মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় দুই কোটি ৮৫ লাখ টন গম উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন।