মত-বিশ্লেষণ

ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা পেতে ‘কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি’

আমরা আস্থার লড়াইয়ে ভয়াবহভাবে পিছিয়ে পড়ছি। আর বিশ্বাস ছাড়া যেকোনো কোভিড-১৯ টিকাই অকেজো হয়ে যাবে। তবে বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ টিকাদান শুরু হওয়ায় এখন আমাদের সামনে জীবনরক্ষাকারী টিকা নিয়ে সত্যিকারভাবে  প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ এসেছে। সুড়ঙ্গের শেষে যে আলো দেখা যাচ্ছে, তা সবার জন্যই প্রজ্বলিত হওয়া দরকার।

যা করা প্রয়োজন: এখন যেহেতু বিশ্বে একাধিক কভিড-১৯ টিকা তৈরি হয়েছে, তাই দরিদ্রতম ও সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীসহ সবার কাছে টিকা পৌঁছানোর মাধ্যমে এই গ্রহ থেকে সাম্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে ভাইরাসটি নির্মূল করার জন্য দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের দিকে আমরা দৃষ্টি দিতে পারি।

সেদিনের জন্য প্রস্তুতির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সবাই যাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে কভিড-১৯ টিকা পায়, তা নিশ্চিত করতে ‘কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি’ নামে যে বৈশ্বিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ইউনিসেফ সেই উদ্যোগের ‘অ্যাডভান্সড মার্কেট কমিটমেন্ট এনগেজমেন্ট গ্রুপ’-এর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার। এখন যখন টিকা পাওয়া যাচ্ছে, তখন কোনো দেশ, কোনো পরিবার ও কোনো শিশুকে যাতে লাইনের পেছনে ঠেলে দেয়া না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কভিড-১৯ টিকা কেনা ও সরবরাহ প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়ে এবং চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহের সুবিধার্থেÑএমনকি সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোয়ও আমাদের বিদ্যমান অবকাঠামোকে ব্যবহার করে আমরা এটি করব। কভিড-১৯ টিকা যাতে সব দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেকোনো টিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বিশ্বাস। আর এ কারণে সব টিকার দাম ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জনসমর্থন তৈরি করতে ও জনসচেতনতা বাড়াতে ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিপজ্জনক তথ্য ছড়িয়ে দেয়া ঠেকাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোয় তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গত অক্টোবরে টিকাদানকে নিরুৎসাহিত করে, এমন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার জন্য ফেসবুক বৈশ্বিক নীতিমালা ঘোষণা করে। এরপর ইউটিউব টিকাদানবিরোধী কনটেন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয় এবং এর অংশ হিসেবে এমন ভিডিওগুলো অপসারণ করে যেগুলোয় কভিডের টিকাদান নিয়ে ভুল তথ্য ছিল। সত্যকে বিকৃত করে এমন কনটেন্ট চিহ্নিত ও অপসারণ করতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..