সুশিক্ষা

পড়ালেখাটা শিক্ষা নিয়ে…

সামাজিক গতিশীল প্রক্রিয়া শিক্ষা। কার্ল মার্কস যথার্থ বলেছেন, সমাজ পরিবর্তনের মৌলিক হাতিয়ার শিক্ষা। মানুষের সংঘবদ্ধ প্রাগৈতিহাসিক জীবনের সঙ্গেও শিক্ষা ছিল। যুগে যুগে কালের বিবর্তনে শিক্ষা পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষা পড়ালেখার বিষয় হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৯ সালের নভেম্বরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএসএইডের সহযোগিতায় একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) নামে পরিচিত।

বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে।

শত জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগে ভর্তি হয়েছি। শিক্ষা বিষয়ের প্রতি আমার আগে থেকে একটা ঝোঁক ছিল। তবে ভর্তি হওয়ার পর শুভাকাক্সক্ষীদের কাছ থেকে এমন কিছু মন্তব্য শুনি, যাতে মনটা খারাপ হয়ে যায়। তাদের মন্তব্য ছিল এমনÑশিক্ষা নিয়ে পড়ার কী আছে, এ বিষয়ের ভবিষ্যৎ কেমন, এটা পড়ে শুধু স্কুলের শিক্ষক হওয়া যায় প্রভৃতি। অনেকে আইইআর নিয়ে এসব ভেবে থাকেন এবং এ বিষয়ে যাদের সুস্পষ্ট ধারণা নেই, তাদের উদ্দেশে কিছু বলছি।

যা পড়ানো হয়

আইইআর এমন একটি ইনস্টিটিউট যেখানে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য যা দরকার তার সবই পড়ানো হয়। যেমন শিক্ষা মনোবিজ্ঞান, শিক্ষার ইতিহাস, জেন্ডার এডুকেশন, শিক্ষার ভিত্তি, শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষা গবেষণা, আইসিটি, কারিকুলাম শিক্ষা, বাংলা, ইংরেজি,

পরিবেশ শিক্ষা প্রভৃতি। একজন শিক্ষার্থী এ বিষয়গুলো জানার মাধ্যমে শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হতে পারবেন।

এখন প্রশ্ন হলো, শিক্ষা নিয়ে পড়ে কি তারা শুধু স্কুলশিক্ষক হবেন? অথবা তারা কোথায় কাজ করবেন? এর উত্তর না দিয়ে আমিও প্রশ্ন করতে চাইÑতারা কোথায় কাজ করবেন না? উত্তরটা আমিই দিচ্ছি, প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব কর্মক্ষেত্রে আইইআরের শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বিষয়ে কাজের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। অর্থাৎ আপনি পিএসসি’র সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি করতে পারবেন। আরও জানিয়ে রাখি, এ বিষয়ের রয়েছে

নির্দিষ্ট কিছু কাজের ক্ষেত্র, যেখানে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা একচেটিয়া রাজত্ব করে থাকেন। যেমন জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইন্সট্রাক্টর হিসেবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, এনসিটিবি, নায়েম, এনটিআরসিএ প্রভৃতি ক্ষেত্রে।

উচ্চশিক্ষা

দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হলে আইইআরের সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশিই। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, কানাড়া ও নরওয়েতে এ বিষয়ের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি নিয়ে পড়ালেখা করতে পারেন। এসব বৃত্তির মধ্যে নরওয়ে কোটা স্কিম, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ফুলব্রাইট স্কলারশিপ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

  হারুনুর রশিদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..