সুশিক্ষা

‘পড়ালেখার পাশাপাশি চাই সহশিক্ষা কার্যক্রম’

‘পরিবর্তন হোক সবকিছুতেই’-এমন কাজের কথা অনেকে বললেও দিনশেষে কথাগুলো আর বাস্তবায়ন করা হয়ে ওঠে না। আমরাও ভাবি, কবে আসবে সেই ছেলে, যে কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হবে। কথা আর কাজে দারুণ সমন্বয়কারী এক ব্যক্তি পাণ্ডুঘর গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এসএম আহবাবুর রহমান। আহবাব মুন্না নামে পরিচিত তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের পাইপলাইন। আহবাব মুন্না এ পাইপলাইনকে শক্ত করে দেশের বেকারত্বের হার কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার কোচ হিসেবে নিয়মিত পরামর্শ দেন। তার কাছে থেকে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ শুনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। পাঠকের উদ্দেশে সেগুলো তুলে ধরেছেন অনিক আহমেদজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক শেষে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে এমবিএ করেছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এইচআরএমসি সম্পন্ন করেন। ১১ বছরের বেশি সময় ধরে মানবসম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত ও উন্নয়নের জন্য পরিশ্রম করছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি তরুণদের ক্যারিয়ার-বিষয়ক টিপস নিয়ে টেলিভিশন ও রেডিও’র কয়েকটি অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্টের (বিএসএইচআরএম) ফেলো, এনএসইউ ইএমবিএ ফোরামের এক্সিকিউটিভ মেম্বার ও আইবিএ এমডিপি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য

উন্নত ক্যারিয়ারের জন্য ছাত্রজীবনে কেমন প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

এসএম আহবাবুর রহমান: অনেকে ছাত্রজীবনে শুধু লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, কোনো সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। মনে রাখতে হবে, শুধু ভালো ছাত্র বা ভালো জিপিএ কিংবা সিজিপিএ থাকলে চাকরি পাওয়া যাবেÑএর কোনো ভিত্তি নেই। অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি অন্য গুণাবলি থাকা চাই। এজন্য ছাত্রজীবনে পড়ালেখার পাশাপাশি নানা ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম, যেমনÑবিতর্ক, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা শাখা, খেলাধুলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব বা সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা যেতে পারে। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু মেধা দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

সহশিক্ষা হিসেবে ক্লাব কার্যক্রম কীভাবে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে ভূমিকা রাখে?

আহবাবুর রহমান: সাধারণত দেখা যায়, ছক করে কাজে নামার পর সেটা আর ছকে বাঁধা থাকে না। তখন মাথা ঠাণ্ডা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে নতুন আইডিয়া বের করে, নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করে সচেতনতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কাজটা সফল করতে হয়। ক্লাবে যুক্ত থেকে এভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আত্ম-উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। ক্লাব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ধৈর্য, নিয়মানুবর্তিতা, টিমওয়ার্কে দক্ষতা, আত্মবিশ্বাসী হওয়া এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো যায়। দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার ফলে মানবিক গুণে অভ্যস্ত হওয়া যায়, যাকে আত্ম-উন্নয়ন বলা হয়। আত্ম-উন্নয়ন চাকরি লাভের জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং পেশাগত জীবনেও অন্যদের চেয়ে ভালো করার সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া নানা চ্যারিটি ক্লাবে কাজ করার মাধ্যমে নিজেকে আরও উদার ও মহৎ করে তোলা যায়।

ছাত্রজীবনে নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বলুন

আহবাবুর রহমান: বর্তমান যুগ নেটওয়ার্কিংয়ের যুগ। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক যার সমৃদ্ধ, তিনি পেশাগত জীবনে ভালো করছেন। যে খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তার নানা ফোরাম, সংগঠন বা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। যেমন কেউ এইচআর সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে এইচআরের নানা ফোরাম বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তেমনি মার্কেটিং, ব্র্যান্ড, সাপ্লাই চেইনÑযে ফিল্ডে যেতে চান সেখানকার সংশ্লিষ্ট ফোরামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। তাদের বিভিন্ন স্বেছাসেবামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ, সেমিনারে অংশ নেওয়া প্রভৃতি একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান লাভ ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে, তেমনি ওই কমিউনিটির পেশাজীবীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখে। এটা আপনাকে পেশাগত জীবনে অনেকভাবে সহায়তা করবে। এমনকি তারা আপনার চাকরি পেতেও সাহায্য করবে। এছাড়া নিয়মিত জব ফেয়ার, ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্টে অংশ নিতে পারেন।

আমরা জানি, ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো নির্ভুল, তথ্যনির্ভর আকর্ষণীয় সিভি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বলুন

আহবাবুর রহমান: সময় নিয়ে সিভি তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে প্রফেশনাল সিভি রাইটারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, অথবা সিভি রাইটিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। অনলাইন জব পোর্টাল ও লিংকডইনে সিভি আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি যে বিষয়ে দুর্বল মনে করেন, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে সিভি আপডেট করতে হবে। ইন্টারভিউতে ডাক পেলে অব্যশই যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে।

অনেক শিক্ষার্থীর মনোভাব হলো, করপোরেট চাকরিতে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নেই ব্যাপারে আপনার মতামত

আহবাবুর রহমান: নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য প্রতিনিয়ত শেখাটা জরুরি। সব চাকরির মানদণ্ড প্রায় একই, যেমন নেটওয়ার্কিং দক্ষতা, ইন্টারপার্সোনালিটি কমিউনিকেশন স্কিল, আত্মবিশ্বাসী হওয়া, পরিশ্রমী হওয়া, সৎ থাকা প্রভৃতি। আধুনিকায়নের যুগে সরকারি ও বেসরকারি উভয় চাকরিতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার বিকল্প নেই। এছাড়া চাকরির সব সেক্টরেই পদোন্নতি হয় দক্ষতার মধ্য দিয়ে। পদোন্নতির মাধ্যমে নিশ্চিত ভবিষ্যতের পথ সুগম হয়।

কম্পিউটার সফটওয়্যার সম্পৃক্ত কোন কাজগুলো আগে শেখা জরুরি?

আহবাবুর রহমান: ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এক্সেলে হিসাব-নিকাশের অনেক কাজ করা যায়। এছাড়া আপডেট সফটওয়্যার সম্বন্ধেও ধারণা রাখা ভালো।

চাপ কমানো বা মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে বলুন

আহবাবুর রহমান: সময় ব্যবস্থাপনা করে নিয়মিত কাজ করলে কাজ জমে থাকে না। কাজ না জমলে চাপ অনেকাংশে কমে যায়। নিজেকে ফুরফুরে মনে হয়। চাপ কমানোর আরেকটা উপায় হলো, ওয়র্কলাইফ ব্যালেন্স অর্থাৎ কাজের বাইরে নিজে, পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের সময় দিয়ে সতেজ থাকা। এছাড়া বই পড়া, ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমেও চাপ কমানো যেতে পারে।

সর্বশেষ..