সারা বাংলা

পড়ালেখা বিদেশে দেশে সফল খামারি

পারভীন লুনা, বগুড়া: অদম্য ইচ্ছাশক্তি মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে নিয়ে যায়। অঢেল সম্পদ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সাফল্যের দেখা পায় না অনেকে। আবার মেধা ও প্রবল ইচ্ছা অনেক মানুষকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। এমন সফলদের একজন বগুড়ার তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব।

গাবতলী উপজেলার পাঁচকাতুলি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের সন্তান বিপ্লব। তার বাবা বগুড়া শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। থাকেন শহরের সূত্রাপুর ঘোড়াপট্টি লেনে। বাবার জুটমিল, হিমাগার, আমদানি-রপ্তানিসহ নানা ব্যবসা থাকলেও তৌহিদ পারভেজকে এসব কিছুই আকর্ষণ করেনি। তাই ২০০৭ সালে পড়ালেখা করতে পাড়ি জমান নিউজিল্যান্ডে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি তুলতে ভালোবাসেন তিনি। তার ধারণকরা ছবি সম্প্রতি উইকিলাভস আর্থ আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান তৌহিদ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে ইনস্টিটিউট অব স্টাডিজে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরেন ২০১০ সালে। এরপর চাকরির পেছনে সময় ব্যয় না করে করে প্রথমে আটা-ময়দার কারখানা (অটো ফ্লাওয়ার মিল) নির্মাণ করেন। পরে ২০১১ সালে সাতটি এঁড়ে বাছুর কিনে গরুর খামার শুরু করেন এবং গড়ে তোলেন বগুড়া ভাণ্ডার ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। তার খামারে এখন দেশি-বিদেশি জাতের শতাধিক গরু রয়েছে।

তৌহিদ বলেন, একজন উদ্যোক্তা হয়ে সাধ্যানুযায়ী বেকারদের কর্মসংস্থান করছি। এ লক্ষ্য পূরণে ডেইরি ফার্ম করেছি। বর্তমানে ৪৫ বিঘা জমির ওপর ধান ও বিদেশি জাতের ঘাসের চাষসহ গরুর খামার দিয়ে ভালো আছি। নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ৩৫ বছর বয়সী তৌহিদ।

তার খামার ও কারখানায় বর্তমানে কাজ করে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক। তিনি বলেন, মহামারিতেও শ্রমিকরা খামারে কাজ করছেন। গত দুই ঈদে সব শ্রমিককে বোনাসও দিয়েছি।

গত কোরবানির ঈদে খামারের গরু বিক্রি করে অর্ধকোটি টাকা আয় করেছেন তৌহিদ। তিনি বলেন, মাছ চাষ ও ফলের বাগান করার ইচ্ছা থাকলেও দেশে ফিরে ময়দার কারখানা চালু করি। এখানে ভুসি ছাড়াও গমের এক ধরনের খুদ বা পশুখাদ্যের উপযোগী বর্জ্য জমা হয়। এসব বর্জ্য কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে উপায় খুঁজছিলাম। সময়টা ২০১০ সাল। সে বছর কোরবানির ঈদে বাবার সঙ্গে হাটে গিয়ে একটা নাদুসনুদুস গরু কিনি। মাংস রান্নার পর মুখে দিয়ে বোকা বনে গেলাম; শুধু চর্বি, স্বাদ নেই। বুঝলাম বেশি লাভের আশায় অল্প সময়ে অসৎ উপায়ে মোটাতাজা করা হয় গরুটিকে। পরে সিদ্ধান্ত নিই, নিজের পছন্দমতো পশু কোরবানির জন্য গরু পালন করব। তাই ময়দা কারখানার ভুসি আর পশুখাদ্যের উপযোগী বর্জ্য কাজে লাগাতেই ছোট পরিসরে গরুর খামার করার সিদ্ধান্ত নিই।

তৌহিদের ভাণ্ডার ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মে ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল ও দেশি জাতের ৩৫টি গাভি রয়েছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি জাতের মোটাতাজা এঁড়ে গরু আছে অর্ধশত। বাছুর আছে ছয়টি। প্রতিদিন ছয়টি গাভি থেকে গড়ে ১০০ লিটার দুধ হয়। প্রতি লিটার দুধ ৪০ টাকা দরে খামার থেকে বিক্রি করা হয়।

তৌহিদ বলেন, দেশের শিক্ষিত যুবকরা চাকরির পেছনে না ঘুরে সামান্য পুঁজি নিয়েও যদি কৃষি কিংবা কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে সফল হতে পারবেন।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, গরু মোটাতাজা করা এবং দুগ্ধখামার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন তৌহিদ। তার উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ ডেইরি খামার গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..