প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পণ্যের মোড়কের নকল রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

‘নকল রোধে মোড়ক পাল্টাচ্ছে মিল্ক ভিটা’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরটি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। ঘটনার বিস্তারিতও জেনে থাকবেন অনেকে। জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ভোগ্যপণ্য বাজারে আফতাব, ডেইরি ফ্রেশ, ঢাকা প্রাইম, মিল্ক ফ্রেশ, আলট্রা মিল্ক, রিয়াল মিল্ক ও পিউরা মিল্কের মতো ১২টি ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির হদিস পায় সরকার, যেগুলো এতদিন সমবায় প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার মোড়ক নকল করে বাজারে প্রধানত দুধ সরবরাহ করে আসছিল। জনসাধারণ বিশ্বাস করতে চাইবেন, মিল্ক ভিটার মোড়ক অবৈধভাবে ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান কেবল হাতেগোনা এ কয়টি নয়; এমন কোম্পানি আরও রয়েছে বাজারে। তারা কেন মিল্ক ভিটার মোড়ক নকলে ব্যাপৃত হলো, তা অনুমান করা কষ্টকর নয়। এরই মধ্যে ভোক্তার অনেকটা আস্থা অর্জন করেছে মিল্ক ভিটা। তাই এর নাম ভাঙিয়ে, প্যাকেট দেখিয়ে, ক্রেতা ঠকিয়ে মুনাফা করাই ওইসব প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য। লক্ষণীয়, তাতে ক্ষতি হচ্ছে দুভাবে। প্রথমত মিল্ক ভিটার পণ্য মনে করে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তা (যার মধ্যে শিক্ষিত ভোক্তাও আছেন); দ্বিতীয়ত মিল্ক ভিটা হারাচ্ছে সম্ভাব্য আয়। এ অবস্থায় উচিত ছিল মোড়ক নকলকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। সেটি করা সম্ভব না হওয়ায় এখন নিজেদের মোড়কই বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে পরিবর্তিত মোড়কে বাজারজাত শুরু হয়েছে টক ও মিষ্টি দই এবং মাখন। এদিকে মোড়ক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে দুধ, ঘি ও রসমালাই। তবে মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেয়ার বিজকে জানান, ‘পাস্তুরিত দুধের মোড়ক পরিবর্তন আসল টার্গেট হলেও তা সময়সাপেক্ষ।’

অবশ্য মোড়ক পরিবর্তনের সুফল ও কুফল নিয়ে আলোচনা এ সম্পাদকীয়ের উদ্দেশ্য নয়। কথা হলো, মোড়ক পরিবর্তন পর্যন্ত যেতে হলো কেন? বাজারে নকল প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য রোধ কি এতটাই শক্ত ছিল! অনেকের মনেই প্রশ্নটি জাগতে পারে। কেননা মিল্ক ভিটা একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয়, যেটির মোড়ক নকল হয়েছে বা হচ্ছে। স্থানীয় অনেক জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের মোড়ক হুবহু নকল করে বা তাতে সামান্য পরিবর্তন এনে নানা ধরনের ভোগ্যপণ্য আজও দেদার বিক্রি হচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশে। এখন মিল্ক ভিটার দেখাদেখি সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কি মোড়ক পরিবর্তন সম্ভব? তাই কারও কারও ধারণা, মোড়ক পরিবর্তন মধ্য মেয়াদেও নকল রোধে তেমন কার্যকর কোনো কৌশল নয়। এখানে নকলকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হলে তা বরং অধিক কার্যকর প্রমাণ হতে পারে। লক্ষণীয়, ইচ্ছা থাকলেও নকল রোধে বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ শাসনের এ দায়িত্বটি তাদের ওপর ন্যস্ত নয়। তাদের ওপর এটি অর্পণ করা হলে বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। এ কর্তব্য সরকার তথা প্রশাসনের। ফলে এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে দৃঢ় পদক্ষেপই প্রত্যাশা করবে সবাই। নকলকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিয়ে মোড়ক পরিবর্তনের পরামর্শ বাজার নজরদারির দুর্বলতারই প্রমাণ বলে প্রতীয়মান। মিল্ক ভিটা মোড়ক পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আর কোনো কোম্পানিকে যেন তাদের মতো মোড়ক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে না হয়, তার প্রতি কর্তৃপক্ষের সতর্ক দৃষ্টিই কাম্য এখন। এটি মেধাস্বত্ব অধিকার (ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস) রক্ষারও প্রশ্ন।