খবর

পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সচেতনভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। রোজায় অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সুযোগ নিতে না পারে, সে ব্যাপারে তিনি বিএসটিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘পবিত্র রমজান মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এ ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘রোজা এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয় এবং অনেক সময় পণ্যের সাপ্লাই ও চাহিদার সমন্বয় থাকে না।’ তাই তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান ও ব্যবসায়ীদের সজাগ থাকতে বলে মত প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দেশবাসীকে বাঁচাতে হবে। সরকার আগামী একসপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’ সবাইকে লকডাউন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত মজুতকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটর, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় প্রভৃতি কারণে প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের পূর্বে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।’

তিনি উল্লেখ করেন, কভিড-১৯ মহামারির ফলে গত বছরের শেষ ৯ মাসে আয় কমে যাওয়া ও কর্মচ্যুতির ফলে অধিকাংশ মানুষ ঋণ করে এবং সঞ্চয় ভেঙে জীবন নির্বাহ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়লে দরিদ্ররা নিদারুণ কষ্টে পড়বে। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রমজানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্য বন্দর থেকে কাস্টমস হাউস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দ্রুত খালাসকরণের কথা বলেন। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, দেশের সব বাজারে দক্ষ ও পর্যাপ্ত বাজার মনিটর করে নিয়মিত ন্যায্য দামের তালিকা হালনাগাদ করা এবং মূল্য তালিকা কার্যকর করার প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে অতি দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ দেয়ার প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, ‘মহামারির সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

ডিএনসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘এটি একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে জনগণকে আসন্ন রমজান মাসে সুফল দেয়া যাবে।’ তিনি জানান, করপোরেশন এরইমধ্যে ৯ সদস্য বিশিষ্ট ‘বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি গঠন করেছে। শিগগির তারা কাজ শুরু করবেন। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। তিনি লকডাউনে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। বলেন, ‘এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ী সমাজের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রমজানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে। ঢাকা মহানগর হাসাপাতালের মাধ্যমে জনগণকে সিটি করপোরেশন থেকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এ সেবা আরও বৃদ্ধি করা হবে।’

মুক্ত আলোচনায় ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দীন মোহাম্মদ, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজির হোসেন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ প্রমুখ ওয়েবিনারে যুক্ত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..