সম্পাদকীয়

পণ্য পরিবহন খরচ কমানো হোক

ভারত ও পাকিস্তানে লরিতে এক কিলোমিটার পথ পণ্য পরিবহনে টনপ্রতি খরচ প্রায় আড়াই টাকা। কিন্তু বাংলাদেশে এ খরচ চারগুণ বেড়ে ১০ টাকার বেশি। এমন তথ্যই দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দেশের বাজার ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে এত বেশি পরিবহন ব্যয় কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে পরিবহন ব্যয় অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কাছাকাছি হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ জন্য যানজট, বেহাল সড়ক, পরিবহন সংগঠনের যথেচ্ছাচার, পরিবহন সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন। উচ্চমধ্যম দেশ গড়নে শিল্পপরিকাঠামোর এই যোগযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ চীনে নিজেদের পণ্য বাজারে উন্নতি করতেই পারছে না; এমনকি দেশের বাজারেই নিজেদের পণ্যের বাজার দখল করে নিচ্ছে চীনা পণ্য। এর একমাত্র কারণ পণ্যমূল্য। কলকাতা কিংবা করাচির তুলনায় ঢাকার বাজারে যে কোনো পণ্যের দাম অনেক চড়া। ইদানীং অনেক বাংলাদেশিই কেনাকাটা করতে কলকাতা ছুটছেন। চীন, ভারত ও পাকিস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাজার ব্যবস্থায় কেবল পণ্যমূল্যের কারণেই অনেক

ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণায় বাংলাদেশকে শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্র হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন খরচকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়। পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে শিল্প খাতের প্রতিযোগী সক্ষমতা সন্দেহাতীতভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। জানজটের কারণে প্রায় ৭৩ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তাতে জিডিপির শূন্য দশমিক সাত শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া পণ্যের মোট দামের ওপর পরিবহন খরচ প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যায় পণ্যভেদে। ট্রেন, ট্রাক ও কার্গোর মধ্যে যেমন সমন্বয় নেই, তেমনি ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিকের সঙ্গেও সমন্বয় নেই। ৩৫ শতাংশ ট্রাক পণ্য না পেয়ে বসে থাকে, যদিও ব্যবসায়ীরা ট্রাক না পেয়ে সংকটে থাকে। নিশ্চিত করতে হবে পরিবহন সংগঠনগুলো যেন ব্যবসায়ীদের জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে।

বড় শিল্পকারখানাগুলো স্থানান্তর করা গেলেও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা মাঝারি ও ছোট এবং আঞ্চলিক কুটিরশিল্প খাতের সরবরাহ কাজে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর বিকল্প নেই। আমদানি বা রফতানি সব ক্ষেত্রেই জাহাজীকরণ, গুদামজাতকরণ ও বিপণনের প্রশ্নে পরিবহন সংকট সমাধান করতে হবে। সরবরাহ সংকটের সমাধান হলে বিশ্ববাজারে পোশাক ও বস্ত্রের হিস্যা বাড়বে এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..