প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পণ্য বর্জনেও ইসরাইলবিরোধী যুদ্ধ করা যায়: ফিলিস্তিনি দূত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমরা পবিত্র ভূমির জন্য যুদ্ধ করছি। আমাদের কেউ শেষ করতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। ফিলিস্তিনি জনগণের নাগরিক অধিকার ৭৩ বছর ধরে বঞ্চিত। ইসরাইল প্রমাণ করেছে, তারা শুধু ফিলিস্তিনের শত্রু না, তারা মানবতা সমগ্র পৃথিবীর শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের হেড অব দ্য মিশন ইউসুফ সালেহ রমাদান।

গতকাল ঢাকায় অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ইউসুফ রমাদান বলেন, মুসলমানদের পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও জনগণকে রক্ষায় সবাইকে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে হবে এমনটি নয়। ভিন্নভাবেও সাহায্য করা যায়। তাদের পণ্য বর্জনের মাধ্যমেও প্রতিবাদ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি আমাদের জন্য সংগ্রাম করতে চায়, তাহলে নানাভাবে সংগ্রাম করা যায়। ইচ্ছাটাই বড় কথা। যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই ভিয়েতনামে পরাজিত হয়েছে। নানাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরোধ করা যায়। আমরা যদি পেপসিকোলা, কোকাকালা তিন মাস পান করা বন্ধ করি, তখন তারা চিৎকার করতে থাকবে। আমরা যদি এক সপ্তাহ ইউএস ডলার ব্যবহার করা বন্ধ করি। তাহলে এর ফল কী হয় আপনারা দেখতে পাবেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অন্যদের মতো জš§গ্রহণ করা মানুষের মতো আমরাও মানুষ। পৃথিবীর অন্যান্য মানুষদের মতো আমরাও স্বাধীন। মানুষের প্রধান এসব মৌলিক অধিকার নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকা সোচ্চার। তারা নিজেরাও এটি উপভোগ করে। কিন্তু যখন ফিলিস্তিনের বিষয় আসে তখন ইউরোপ-আমেরিকা নিশ্চুপ থাকে। এ ধরনের দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউসুফ রমাদান বলেন, ইসরাইল যা ইচ্ছা তাই করছে। মধ্যপ্রাচ্যে কখনও শান্তি, সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হবে না, যতক্ষণ না ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতা পায়। ফিলিস্তিনের ভাগ্য ফিলিস্তিনিরা নির্ধারণ করবে। ফিলিস্তিন একটি পবিত্র জায়গা। ইসলামের প্রথম কেবলা। আমাদের যতই ক্ষতি হোক না কেন আমরা সেটি রক্ষা করে যাব।

বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সহযোগিতা করছে জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তিন হাজার মাইল দূর থেকেও বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। একই সময় বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে বিশ্ব ও ইসরাইলকে জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনিরা একা নয়। আমরা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশের জনগণও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, আমি সাত দিন ধরে দেখছি, বাংলাদেশিরা আমাদের ঢাকার দূতাবাসে আসছে সাহায্য করার জন্য। অনেকে বিভিন্ন কাজ ফেলে আমাদের এখানে আসছে, আমাদের দেশের মানুষের জন্য সহমর্মিতা জানাতে।

প্রসঙ্গত, ঈদের কয়েকদিন আগ থেকেই ফিলিস্তিনের ওপর মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এ হামলায় এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার প্রতিবাদ হচ্ছে সারা বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণও এর প্রতিবাদে প্রতিনিয়ত মিছিল-সমাবেশ করছে।