সম্পাদকীয়

পণ্য মজুত বন্ধে বাজার নিয়ন্ত্রণে জোর দিন

দুর্যোগ কিংবা উৎসব-পার্বণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন সুযোগ-সন্ধানী ব্যবসায়ীরা। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার খবর টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হতেই আগে কেনা পেঁয়াজের দামও দ্বিগুণ হয়ে যায়। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। ব্যবসায়ী চক্রের কারসাজিতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেও পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও কারসাজি বন্ধ করা যায় না। বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাসে দেশে দেশে প্রাণহানি বেড়ে যাওয়া এবং আমাদের দেশেও মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জনসমাগম সীমিত হয়ে পড়েছে। ‘লকডাউন’ আতঙ্কে বাজারে চলছে অস্থিরতা। আতঙ্কিত হয়ে অনেকে মাসখানেকের পণ্য কিনতে থাকায় বাজারে পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদায় চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সুযোগ পেয়ে বিক্রেতারাও বাড়িয়েছেন। বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সীমিত ও নি¤œ আয়ের মানুষ। বিভিন্ন ব্যবস্থা সত্ত্বেও বাজারে প্রভাব পড়েনি। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী: খাদ্য সংকট নেই, মজুত করবেন না’ শীর্ষক প্রতিবেদন সবার মনে আশার সঞ্চার করবে বলেই ধারণা।

খবরে বলা হয়, দেশে খাদ্যপণ্যের যথেষ্ট মজুত থাকার পাশাপাশি কমপক্ষে এক বছর বিদেশ থেকে আমদানির সামর্থ্যও রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

খোদ সরকারপ্রধান আশ্বস্ত করায় বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্বাস। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবায়নে ব্যবস্থা না নিলে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজার তদারকি করা গেলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করি। প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিনিধি ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে, সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। শুধু বাজার নয়, ব্যবসায়ীদের গুদামও আকস্মিক পরিদর্শন করতে হবে। সব দোষ ব্যবসায়ীদের নয়। পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি হলে দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন তারা। চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে চাঁদাবাজরা সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া অবশ্য এ সমস্যা দূর করা যাবে না।

টিসিবি’র মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাড়ানো গেলে ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার লোকজনের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলে সাধারণ মানুষ পণ্য মজুত করা থেকে নিবৃত্ত হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..