প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

পতনই পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক চিত্র হয়ে গেছে

রুবাইয়াত রিক্তা: ক্রমাগত সূচক ও শেয়ারদরে পতন এখন পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার যখন ভালো ছিল, তখন সূচক টানা ঊর্ধ্বমুখী হলে মাঝে মাঝে বিক্রির চাপ বাড়িয়ে সূচকের গতি নিম্নমুখী করা হতো। আর বর্তমানে মাসজুড়ে এক-তৃতীয়াংশ সময় সূচক নিম্নমুখী থাকে। মাঝেমধ্যে দু-একদিন শেয়ার কেনার চাপ বাড়িয়ে বা সূচকে যেসব শেয়ারের প্রভাব বেশি, সেগুলো কিনে সূচক জোর করে টেনে বাড়ানো হয়। বাজারে এখন বিক্রির চাপ বেশি। মাঝে মাঝে কেনার চাপ থাকলেও তার গতি ও স্থায়িত্ব খুবই কম।
সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে তিন কার্যদিবস ধরে সূচকের পতন হচ্ছে। তিন দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক নেমে গেছে ৭৫ পয়েন্ট। লেনদেন নেমেছে ৩০০ কোটিতে। গতকাল লেনদেন হয় ৩২০ কোটি টাকা। সবগুলো খাতেই ছিল দরপতনের আধিক্য। বেশকিছু ছোট খাত শতভাগ নেতিবাচক অবস্থানে ছিল।
গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ শতাংশ হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে ৭৪ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। শীর্ষে থাকা ন্যাশনাল টিউবসের প্রায় ২৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১২ টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। মুন্নু স্টাফলার্সের প্রায় ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়; দরপতন হয় প্রায় ২৯ টাকা। পৌনে তিন শতাংশ বেড়ে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। এরপর ১৭ শতাংশ লেনদেন হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এ খাতে ৫৯ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। স্কয়ার ফার্মার প্রায় ২১ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে আড়াই টাকা। সিলকো ফার্মার পৌনে আট কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। ওয়াটা কেমিক্যালের সোয়া ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়; দর বেড়েছে ৯ টাকা। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৫৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। সামিট পাওয়ারের সাড়ে ২০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের সোয়া ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়; দর বেড়েছে ৪২ টাকা ৮০ পয়সা। গ্রামীণফোনের প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়; দরপতন হয় চার টাকা ৩০ পয়সা। বস্ত্র খাতে ৭৭ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। স্টাইল ক্রাফটের প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হলেও ২৮ টাকা দরপতন হয়। তবে প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে এমএল ডায়িং দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৫১ শতাংশ ফান্ডের দরপতন হয়। চার প্রতিষ্ঠান দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এছাড়া ছোট খাতগুলোর মধ্যে পাট, কাগজ ও মুদ্রণ, সেবা ও আবাসন, চামড়াশিল্প, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে কোনো কোম্পানির দর বাড়েনি।

সর্বশেষ..