প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পতনমুখী বাজারে কেনার চাপ ছিল ওষুধ, খাদ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে

রুবাইয়াত রিক্তা: দুদিন ইতিবাচক থাকার পরে গতকাল উভয় বাজারে দর সংশোধন হয়। মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় প্রায় ৫০ শতাংশ কোম্পানির দর সংশোধন হয়। দর বেড়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশের। বৃহৎ প্রায় সব খাতেই অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। ওষুধ ও রসায়ন এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিক্রির তুলনায় কেনার প্রবণতা বেশি ছিল। এছাড়া মাঝারি খাতগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল খাদ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত। ছোট খাতগুলোর মধ্যে শেয়ার কেনার ঝোঁক ছিল পাট, সিরামিক, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে। তবে মন্দাবাজারে দুর্বল কোম্পানিগুলোর দর তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।

১৭ শতাংশ বা প্রায় ৭৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাত। এ খাতে ৫৪ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। বিবিএস কেব্লসের ১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। ওইম্যাক্স ইলেকট্রোডের আট কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ৭০ পয়সা। বেশ কিছুদিন পর ফের সাড়ে সাত শতাংশ বেড়ে মুন্নু জুট স্টাফলার্স দর বৃদ্ধিতে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে। বছরজুড়ে কোম্পানিটি দর বৃদ্ধির চমক দেখালেও লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে চমক দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এক সময়ের সবচেয়ে দামি শেয়ারের কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৯ সালে মাত্র ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছে। বর্তমানে শেয়ারটির সর্বশেষ দর ৮১২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে এসেছে। এ গ্রুপের অপর কোম্পানি মুন্নু সিরামিকের দর সোয়া আট শতাংশ বেড়েছে। পাঁচ শতাংশ বেড়ে বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস দর বৃদ্ধিতে দশম অবস্থানে ছিল। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৪১ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ভিএফএস থ্রেড ডায়িংয়ের আট কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১০ পয়সা। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৬৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। স্কয়ার ফার্মার সাড়ে ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১০ পয়সা। ইন্দোবাংলা ফার্মার সোয়া ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দেড় টাকা। দর বৃদ্ধিতে পঞ্চম অবস্থানে ছিল কোম্পানিটি। জ্বালানি ও ওষুধ খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৫৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। সামিট পাওয়ারের সাড়ে ১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ১০ পয়সা। খুলনা পাওয়ারের প্রায় ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে এক টাকা ৭০ পয়সা। খাদ্য খাতে ৮২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) শেয়ারপ্রতি আয় ৮৬ পয়সা লোকসান হওয়া সত্ত্বেও গতকাল জেমিনি সি ফুডের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। এছাড়া সাড়ে ছয় শতাংশ বেড়ে ফু ওয়াং ফুড দর বৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দর বেড়েছে ৬০ শতাংশ কোম্পানির। মিউচুয়াল ফান্ডে ৪৯ শতাংশ ইউনিটের দর বেড়েছে। অধিকাংশ ফান্ডের দর অপরিবর্তিত ছিল। গ্রামীণফোনের ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় পাঁচ টাকা ৭০ পয়সা।