প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

পতনমুখী বাজারে কয়েকটি কোম্পানির অস্বাভাবিক লেনদেন

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল ফের সূচকের বড় পতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ৭৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। হাতে গোনা মাত্র ১০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। দরপতন হয় ৮০ শতাংশ কোম্পানির। লেনদেনের শুরু থেকেই টানা বিক্রির চাপে লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে। তবে পতনমুখী বাজারে ভালো এবং মৌলভিত্তির কোম্পানির দর না বাড়লেও কয়েকটি ছোট মূলধনি ও দুর্বল কোম্পানির দর অস্বাভাবিক বেড়েছে, সে সঙ্গে লেনদেনও হয়েছে বড় অঙ্কের।
গতকাল লেনদেন ও দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসা প্রকৌশল খাতের ন্যাশনাল টিউবসের প্রায় ২৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা। সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিটি গত তিন বছর ধরে লোকসানে রয়েছে। চলতি বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় লোকসানে রয়েছে। তিন প্রান্তিক শেষে ইপিএস ৯৬ পয়সা লোকসানে। মাত্র চার কার্যদিবসে শেয়ারটির দর ১২১ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১৫২ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে আসে। কোম্পানিটি ২০১৭ সালে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলেও ২০১৮ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে এ ক্যাটেগরি ধরে রেখেছে। ওষুধ খাতের জেএমআই সিরিঞ্জের প্রায় ২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ২৩ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানিটি গত তিন বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তবে শেয়ারটি এরই মধ্যে অতিমূল্যায়িত। সর্বশেষে লেনদেন হয়েছে ৫১৬ টাকা ১০ পয়সায়। লেনদেনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা বীকন ফার্মার সাড়ে ২৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দেড় টাকা। কোম্পানিটি জেড ক্যাটেগরি থেকে গত তিন বছর ধরে বি ক্যাটেগরিতে রয়েছে। গত ১১ জুুলাই থেকে শেয়ারটির দর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ওইদিন ১৯ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হলেও গতকাল লেনদেন হয় ২৯ টাকায়। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৬ পয়সা। বস্ত্র খাতের স্টাইলক্রাফটের সোয়া ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ২৩ টাকা ৬০ পয়সা। মাত্র ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত ও পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯১৯ টাকা। গত ২৬ আগস্ট শেয়ারটির দর ছিল ৭২০ টাকা ৮০ পয়সা। গতকাল লেনদেন হয় ৯১৯ টাকা ৭০ পয়সায়। অতিমূল্যায়িত অপর কোম্পানি মুন্নু জুট স্টাফলার্সের ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়। শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন হয় দুই হাজার ৪৫ টাকায়। কোম্পানিটি ২০১৫-১৬ দেড় বছরে দিয়েছিল ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। ২০১৭ সালে দেয় ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। এরপর হঠাৎ করে ২০১৮ সালে দেয় ৩৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। গত বছর এ শেয়ারটির দর উঠেছিল পাঁচ হাজার ৬০০ টাকায়। বর্তমান দর দুই হাজার ৪৫ টাকা। গত দুই মাসে শেয়ারটির দর এক হাজার ৩৪৪ টাকা বেড়েছে। মাত্র ১৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের অপর কোম্পানি ওয়াটা কেমিক্যালের সোয়া ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ২১ টাকা ১০ পয়সা। শেয়ারটি সর্বশেষ লেনদেন হয় ৬৭৪ টাকা ৭০ পয়সায়। অতিমূল্যায়িত এ কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৮ সালে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ ও ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।

সর্বশেষ..