প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পতনেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তিন খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসইর) সব সূচক কমেছে। সেই সঙ্গে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কমেছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের পতনেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল তিন খাতের শেয়ারে। এর ফলে আলোচিত খাতগুলোয় শেয়ারদর সামান্য বেড়েছে। এদিন সামান্য বৃদ্ধির মধ্যে দর বেশি বেড়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শেয়ারে। এরপর শেয়ারদর বেশি বেড়েছে আর্থিক খাতের শেয়ারে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ার।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল আগ্রহ বেশি থাকা খাদ্য খাতের শেয়ারদর বেড়েছে দশমিক ৩০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ২১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ৩টির দাম  কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্থিক খাতের শেয়ারদর গতকাল বেড়েছে দশমিক ২০ শতাংশ। খাতটিতে গতকাল মোট ২৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম কমেছে ২টি কোম্পানির শেয়ারের এবং বাকি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল শেয়ারদর বৃদ্ধি দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা জ্বালানি খাতের শেয়ারদর দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। আলোচিত খাতটিতে গতকাল মোট ২৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। খাতটিতে লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে এবং ৪টির দর কমেছে। এছাড়া গতকাল সিমেন্ট, প্রকৌশল, টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, বস্ত্র ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির ও কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় শেয়ারদর বেশি কমেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতের কোম্পানির শেয়ারে। খাতটিতে গতকাল শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এরপর বেশি কমেছে ভ্রমণ খাতের কোম্পানির শেয়ারে। এদিন ভ্রমণ খাতে শেয়ার দর কমেছে ২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার দর কমে তৃতীয় স্থানে ছিল পাট খাত। চতুর্থ স্থানে থাকা সেবা ও আবাসন খাতের শেয়ারদর কমেছে ২ শতাংশ।

অপরদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আইটি খাতে। খাতটিতে গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হওয়া জীবন বিমা খাত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। গতকাল চতুর্থ স্থানে থাকা খাদ্য খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ২২৪ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৬ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৯ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা দশমিক ৪১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৬৩ দশমিক ৬০ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ২০৭ দশমিক ১ পয়েন্টে।

ডিএসইতে গতকাল ৩১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে গতকালের লেনদেন ৪২০ দিন বা এক বছর ৭ মাস ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগের ডিএসইতে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল কম লেনদেন হয়েছিল। ওইদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২৩৬ কোটি টাকার। ডিএসইতে গতকাল ৩০০ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ২২টির বা ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশের, শেয়ারদর কমেছে ৬৪টির বা ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশের এবং ২১৪টির বা ৭১ দশমিক ৩৩ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৫.৬৬ পয়েন্ট বা দশমিক ১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৯৩ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে। সিএসইতে গতকাল ১৩৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৫টির আর ৮২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।