প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পতনের ধাক্কায় ৩৪ মাস আগের অবস্থানে ডিএসই সূচক

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পতনের ধাক্কায় এবার প্রায় ৩৪ মাস আগের অবস্থানে চলে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক। গতকাল ৫২ পয়েন্ট হ্রাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে সূচক দুই বছর ১০ মাস ১০ দিন আগের অবস্থানে নেমে যায়। দিন শেষে সূচকের অবস্থান হয় চার হাজার ৮১০। এর আগে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর সূচকরে অবস্থান ছিল চার হাজার ৮০১ পয়েন্ট।
এদিকে পতন যতই বড় হচ্ছে, পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। সম্প্রতি বড় বড় পতন তাদের আরও ভাবিয়ে তুলছে। ফলে বাজার স্থিতিশীল হবেÑএতদিন যারা এ কথা ভেবে অপেক্ষা করছিলেন, তারাও উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তারা।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যায়, প্রতিদিনই উধাও হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া একযোগে কমছে তালিকাভুক্ত সব খাতের শেয়ারের দর, যার জের ধরে আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার মূলধন। গতকাল এক দিনেই বাজারমূলধন কমে গেছে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।
এই পরিস্থিতিতে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা, বাড়ছে ক্ষোভ। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, পুঁজিবাজার নিয়ে তারা খুবই শঙ্কিত। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের অবস্থা আরও করুণ হবে বলে তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক দরপতনের জের ধরে গতকালও সকাল থেকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমতে থাকে। বাজার মূলধন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লেনদেন হয় ৩২৭ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
বিনিয়োগকারীরা বলেন, পুঁজিবাজার এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যাতে বাজারের এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মূলত এ বাজার থেকে একটি চক্র লুটপাট করার চেষ্টা করছে, অথচ এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই কারও। তারা চান পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হোক, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অপেক্ষার পরও কোনো ফল পাচ্ছেন না।
এ প্রসঙ্গে শহিদুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, বহুদিন থেকে বাজারে নীরব দরপতন চলছে। অথচ বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখছে না। সবার আগে কারা বাজার নিয়ে কারসাজি করছে, তাদের বের করা দরকার। সেটা করা হচ্ছে না। ফলে বাজারও তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসছে না।
যদিও উল্টো কথা বলছেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাদের যুক্তি, পুঁজিবাজারের জন্য অনেক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিনিয়োগকারীরা। মূলত তাদের মনোগত কারণেই পতন থামানো যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিককালের বাজারচিত্র লক্ষ করলে দেখা যায়, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পুঁজিবাজার কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। ফলে তখন বাজারে আসেন নানা শ্রেণির মানুষ। কিন্তু বছরের শেষদিকে নানা ইস্যুতে বাজার পতন শুরু হয়। ফলে বেকায়দায় পড়েন বিনিয়োগকারীরা।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব রয়েছে। তবে এর জন্য তারা একা দায়ী, তা বলব না। যাদের বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার কথা, তারা বর্তমানে চুপ রয়েছে। ফলে বাজারচিত্র বদলাচ্ছে না। তিনি বলেন, এ কথা ঠিক যে বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ শেয়ার সস্তা, কিন্তু এখানে নতুন অর্থ না এলে এসব শেয়ার আরও সস্তা হয়ে যাবে।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সিকিউরিটি হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট চলছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এর জন্য দায়ী আইসিবির মতো বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। তারা অপেক্ষায় রয়েছেন আরও কম দরে শেয়ার কেনার। ফলে বদলাচ্ছে না বাজারচিত্র।

সর্বশেষ..