নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা দরপতনের সঙ্গে লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও টাকার পরিমাণ কমছে। সপ্তাহে এক দিন কিছুটা উন্নতি হলে পরের চার দিন টানা দরপতন হচ্ছে। এমন অবস্থা গত নভেম্বর মাসজুড়েই ছিল পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় গতকাল ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা কমেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর কমেছে।
ডিএসইর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৪২ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৯০ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৬ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
ডিএসইর তথ্যমতে, গতকাল লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি এবং ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। মোট ৩৮৮টি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ২৯২টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে ৪৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটেগরির ২১৪টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি কোম্পানি ও ফান্ডের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১৫৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৩০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির ৭৮টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ফান্ড ও কোম্পানির দর দাম বেড়েছে। এর বিপরীতে ৬৫টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৪টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
‘জেড’ ক্যাটেগরির ৯৫টি কোম্পানি ও ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৭৪টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৪টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বেশির ভাগ ফান্ডের ইউনিটের দর কমেছে। লেনদেন হওয়া ৩৫টি ফান্ডের মধ্যে একটি ফান্ডের ইউনিট ৫টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৫টি ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৫টি ফান্ডের ইউনিট দর।
ডিএসইতে গতকাল মোট ১৪ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২০টি শেয়ার ও ইউনিট এক লাখ ৫০ হাজার ৮১৪ বার হাতবদল হয়েছে। এরই জেরে দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৪১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হান কটনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। ১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফাইন ফুডস।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑমুন্নু ফেব্রিক্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, রহিমা ফুড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং একমি পেস্টিসাইড।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও তারল্য সংকটের প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে টানা কয়েক কার্যদিবস ধরে বাজারে পতনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
প্রিন্ট করুন



Discussion about this post