দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পতনের পর ওষুধ ও রসায়ন খাতে ঝোঁক বিনিয়োগকারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা পতনের পর সম্প্রতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। তারল্য সংকট কাটাতে সরকারি অর্থ ছাড় করার ঘোষণা দেওয়ায় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে পুঁজিবাজারের সবগুলো সূচক। যার জের ধরে বাড়ছে তালিকাভুক্ত সব ধরনের শেয়ার ও ইউনিটের দর। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। যদিও পতনের বাজারেও অন্য খাতের তুলনায় খাতটির অবস্থা সন্তোষজনক ছিল।

পতনের পরপরই খাতটির প্রতি আরও বেশি ঝোঁক বাড়তে থাকে বিনিয়োগকারীদের। গত সপ্তাহজুড়েই এ প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতিদিনই লেনদেনে এগিয়ে ছিল এ খাতের কোম্পানি। নিত্যদিনই লেনদেন শেষে দরবৃদ্ধির তালিকায়ও এ খাতের আধিপত্য দেখা গেছে। সপ্তাহ শেষে দর বৃদ্ধির তালিকায় স্থান পেয়েছে এ খাতের দুই কোম্পানি। কোম্পানি দুটি হচ্ছে ওরিয়ন ফার্মা ও ফার কেমিক্যাল।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অন্য কোম্পানি ফার কেমিক্যালের শেয়ারদর বেড়েছে ২৪ শতাংশ। গত সপ্তাহের বাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শেষদিন ছাড়া অন্য দিনগুলোয় এ খাতের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। প্রতিদিনই গড় লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ১০ শতাংশের বেশি। এছাড়া প্রতিদিনই খাতটির বেশিরভাগ কোম্পানিতে বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতার ভিড় বেশি ছিল।

এসব কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়ে আলাপ করলে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, এ খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো। নগদ লভ্যাংশ প্রদানের হারও বেশি। অন্যদিকে শেয়ারদরও অনেক কম রয়েছে। শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত রয়েছে বিনিয়োগ উপযোগী। বর্তমানে এ খাতের কোম্পানিগুলোর গড় পিই রেশিও বা শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত ১৬ দশমিক ৩৩। যে কারণে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে তারা খাতটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, সম্প্রতি বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর কারণে প্রায় সব খাতের শেয়ারদরই বাড়ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কমে অবস্থান করছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। তাই বিনিয়োগকারীরাও ফিরে আসতে শুরু করেছেন। যে কারণে সব ধরনের শেয়ারদর বাড়ছে।

ওষুধ ও রসায়ন খাত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন বোনাস লভ্যাংশ পছন্দ করেন না। যেসব কোম্পানি নগদ লভ্যাংশ দেয়, বিনিয়োগকারীরা সেগুলোয় বিনিয়োগ করতে চান। ওষুধ ও রসায়ন খাতের বেশিরভাগ কোম্পানি বিগত কয়েক বছর ধরে বোনাসের চেয়ে নগদ লভ্যাংশ বেশি দিচ্ছে, যে কারণে বিনিয়োগকারীরা এ খাতের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

এদিকে দুই প্রান্তিক শেষে এই খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ কোম্পানির মুনাফা আগের চেয়ে কমেছে। তবে এ নিয়ে চিন্তার কিছু আছে বলে মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, কোনো কোম্পানির এক প্রান্তিক বা দুই প্রান্তিকের হিসাব দেখে বছর শেষে কী হবেÑতা সবসময় বোঝা যায় না। কারণ যে কোনো সময় কোম্পানির ব্যবসা ভালো হতে পারে। পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে আর্থিক অবস্থা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..