প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পতনের পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়ালেন বিদেশিরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পতনের পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়ালেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) জুলাই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন আগের মাসের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
জুলাই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৭৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা করেছেন, যার পরিমাণ আগের মাসে ছিল ৬০০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ১৮২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
বিদেশিদের এমন তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সব সময় বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিনিয়োগ করেন। বাজারে এখন পতন চলছে। অর্থাৎ বেশিরভাগ শেয়ারের দরই বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে বিদেশিদের লেনদেন বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেক বুঝেশুনে বিনিয়োগ করেন। এখন অনেক ভালো শেয়ারের দর তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। তারা হয়তো এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। যে কারণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন তারা। আমার মনে হয়, সব ধরনের বিনিয়োগকারীর এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সময়। কারণ বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে।
গত বছরের বেশিরভাগ সময় বিদেশিদের বিনিয়োগে ভাটার টান লক্ষ করা যায়। মূলত নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজার পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে দোলাচলে ছিলেন তারা। যে কারণে গত বছর বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কমে যায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি। তবে এ বছরের শুরু থেকেই বিদেশিদের লেনদেন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদেশিদের লেনদেন হয় প্রায় ৮১৫ কোটি টাকা। পরের মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে লেনদেন বেড়ে হয় ৮৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন ৫৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার। এর বিপরীতে বিক্রি করেছেন ২৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার। এ হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে তাদের নিট বিনিয়োগ দাঁড়াল ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। জানুয়ারিতে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ ছিল ১৭৬ কোটি টাকা।
এদিকে মার্চে এসে লেনদেন আরও বাড়ে। ওই মাসে বিদেশিদের লেনদেন হয় ৮৭৪ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে তারা শেয়ার কেনার চেয়ে বেশি বিক্রি করেন। পরের মাসে তাদের লেনদেনে কিছুটা ভাটা পড়ে। এ মাসে (এপ্রিল) তারা
মোট ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন করেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, বিদেশিরা বাজারে ফিরে আসছেন এটি ভালো খবর। তবে বিনিয়োগ নিয়ে এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছি আমরা। কারণ, হঠাৎ করে যদি তারা উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ তুলে নেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, সবাই পুঁজিবাজারে আসেনস লাভ করার জন্য। সুযোগ এলে সবাই তা কাজে লাগাতে চান। বিদেশিরাও এর বাইরে নন। যে কোনো সময় তারা
বিনিয়োগ তুলেই নিতে পারেন। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। তাদের উচিত, নিজেদের ইচ্ছামতো ভালোমানের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার। এতে পুঁজিবাজারের যে কোনো বৈরী পরিস্থিতিতে তারা নিরাপদে থাকতে পারেন।

 

সর্বশেষ..