দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পতনের বাজারেও বড় ভূমিকায় মৌলভিত্তির কোম্পানি

শেখ আবু তালেব: দেশের প্রধান পুঁঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ফের পতনের মুখে পড়েছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। পতন হয়েছে ব্ল–-চিপস খ্যাত ডিএস৩০ সূচকেরও। মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ করেছে মৌলভিত্তির শেয়ারগুলো। তারপরও দিন শেষে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে।

গতকালের ডিএসইর লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে ডিএসইর সব সূচক। কিন্তু গতকাল শেষ মুহূর্তে প্রায় ৩১ পয়েন্ট পতন হয় প্রধান সূচকের। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইতিবাচক ধারায় থাকা মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারেই বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকছেন। দুই দিন এসব শেয়ারের দর বৃদ্ধির পর গতকাল কিছুটা কমেছে। এটি বেশি উদ্বেগের নয়। কিন্তু পতন অব্যাহত থাকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা।

লেনদেন শেষে গতকাল ডিএসইতে মোট ৪০৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১৩২, কমে ১৬১ ও অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টির।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল মৌলভিত্তির প্রায় সব খাতের শেয়ার দরপতন হয়েছে। শুধু টেলিকম খাত শূন্য দশমিক শূন্য এক শতংশ গেইনার করেছে। জানা গেছে, গতকাল মৌলভিত্তির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক খাতের ১৮টির শেয়ারদরে পতন হয়েছে। অথচ মোট লেনদেনের সাত শতাংশ অবদান রাখে খাতটি।

অপরদিকে প্রকৌশল খাতেরও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর পতন হয়েছে। এ খাতটিতে মোট ৩৯টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ২২টিরই শেয়ারদর পতন হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র চারটির। খাতটি মোট লেনদেনের ১৪ শতাংশ লেনদেন করে।

২২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টিরই শেয়ারদর পতন হয়েছে এ সময়ে। শেয়ারদর পতন হয়েছে খাদ্য ও অনুুষঙ্গ খাতের। এ খাতের মোট ১০টির শেয়ারদরে পতন হয়েছে। কিন্তু লেনদেন বিবেচনায় নিলে এ খাতটি তিন শতাংশ অবদান রাখে।

এছাড়া মৌলভিত্তির সাধারণ বিমা খাতে গতকালও বিনয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল। দুই দিন উত্থানের ধারাবাহিকতা গতকালও এ খাতে অব্যাহত ছিল। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৩৮টিরই শেয়ারদর গতকাল বৃদ্ধি পেয়েছে। ছয়টির শেয়ারদর গতকালও পতন হয়েছে।

আর্থিক খাতের আরেকটি হচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ড। গতকাল এ খাতটিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে। দিন শেষে লেনদেন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৮টির শেয়ারদর পতন হয়েছে, এগিয়েছে মাত্র পাঁচটির। নিরাপদ খাত হিসেবে পরিচিত মিউচুয়াল ফান্ড গতকাল ডিএসইর লেনদেনে অংশ রাখে তিন শতাংশ।

মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ অবদান রাখা ওষুধ খাতেও মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এ খাতটির মোট কোম্পানির মধ্যে ১৪টির শেয়ারদর ছিল ইতিবাচক ধারায়। শেষ পর্যন্ত ১৫টি শেয়ার পতন থেকে বের হতে পারেনি।

তুলনামূলক লোকসান গুনেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিও। মোট লেনদেনে ছয় শতাংশ অবদান রাখা খাতটির গতকাল ২৬টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়। এরপরও ১৬টির শেয়ারদর ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে। চারটির শেয়ারদরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এসব তথ্য অনুযায়ী, খাতভিত্তিক শেয়ার লেনদেনে লোকসানের পাশাপাশি অনেক শেয়ারেই গেইন করছেন বিনিয়োগকারীরা। এজন্য বিনিয়োগকারীদের গত কয়েক দিন ধরেই মৌলভিত্তির কোম্পানিতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে মূল ধারার বিনিয়োগকারীদের আস্থায় রাখা সম্ভব হলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে দীর্ঘ মেয়াদে।

গতকাল ডিএসইতে চারটি কোম্পানি ব্লক মার্কেটে লেনদেন করে। এসব কোম্পানির মোট এক কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..