প্রচ্ছদ শেষ পাতা

পতন ঠেকাতে বন্ড ছাড়ার সুযোগ চায় বিএমবিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের চলমান পতন সম্প্রতি আরও বড় হচ্ছে। একযোগে কমছে সব ধরনের কোম্পানির শেয়ারদর। যার প্রভাবে সূচকে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বন্ড ছাড়ার সুযোগ চায় বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। কারণ সংগঠনটি মনে করে পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতনের পেছনে তারল্য সংকটকে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন বিএমবিএ’র সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডিবিএ ও বিএমবির নেতারা বৈঠক করেন।
নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান নিয়মে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ যদি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে তবে তাকে ওই ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই আমরা চাই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বন্ড ইস্যু করে যে টাকা পাবে সে টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে। তবে তাকে ব্যাংকের বিনিয়োগের বাইরে হিসাব করতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেসব ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক কাজ করছে, তারা অনেক সময় মূল ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে বিনিয়োগ করে। কিন্তু সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজারসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সহজেই বন্ড ইস্যু করতে পারে এবং ওই বন্ডকে মূল ব্যাংকের এক্সপোজারের বাইরে রাখা হয়, তাহলে তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী টানার জন্য ভালো এবং মানসম্মত প্রতিষ্ঠানের আইপিও নিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী।
তিনি বলেন, দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই বলে আইপিও বন্ধ করা যাবে না, অবশ্যই আইপিও আসতে হবে। সেই আইপিও হতে হবে মানসম্মত। যাতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শাকিল রিজভী বলেন, আস্থা সংকটের কারণে সম্প্রতি দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে, যা সমাধানে মানসম্মত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনতে হবে। এ লক্ষ্যে সেমিনারসহ বিভিন্ন উপায়ে ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনতে ডিবিএ সহযোগিতা করবে। এছাড়া ভবিষ্যতে কেউ অসৎ উপায়ে আইপিও আনলে ডিবিএ সোচ্চার হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইপিওতে মানসম্মত কোম্পানি আনার বিকল্প নেই। এ বিষয়টিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ মানসম্মত আইপিও আসলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এর ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে। ভালো কোম্পানি আসছে না বলে বাজারে ভালো বিনিয়োগকারী আসছে না। যাতে লেনদেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আইপিওর ক্ষেত্রে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিকে আরও ভালো করতে হবে।
শাকিল রিজভী জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শক্ত ভূমিকা থাকলে ভালো আইপিও আসবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ভালো মানসম্মত কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে অবশ্যই শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের দুই কিলোমিটারের মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজের সার্ভিস সেন্টার খোলার নিয়ম রয়েছে। চলতি বছরেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান কার্যালয় নিকুঞ্জে চলে যাবে। তাই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজের সার্ভিস সেন্টার খোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য বিএসইসির কাছে দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমবিএ’র সাবেক সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান, ডিবিএর সহসভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিওসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..