প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

পতন শেষে বাজারের স্বাভাবিক উত্থান

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে ষাঁড় আর ভল্লুকের খেলা হয়। এ খেলায় নেতৃত্ব দেয় বিনিয়োগকারীরা। বাজারে যখন তেজিভাব থাকে, তখন এটাকে বুল মার্কেট আর পতনের বাজার বিয়ার মার্কেট নামে পরিচিত। তবে বুল-বিয়ার যাই বলা হোক না কেন, কোনোটাই বাজারের স্থায়ী রূপ নয়। বাজারে বুলের পরে বিয়ার অথবা বিয়ারের পরে বুলের দেখা মেলে। তবে এই বুল-বিয়ারের লড়াইয়ের মাঝে পড়ে কেউ লাভবান হয় আর কেউবা একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়।

পুঁজিবাজারের প্রাণই হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখার দায়িত্ব বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর। এছাড়া বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারসাজি হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণেই আমাদের দেশে পুঁজিবাজারে জুয়াড়িদের এতটা দাপট। অনেক সময় এ জুয়াড়িরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে পুঁজিবাজারের প্রতিটি লেনদেনের খবর থাকার কথা নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর কাছে। কোন সিকিউরিটিজ হাউজে কোন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে, তা তাদের অজানা থাকার কথা নয়। কারা বড় অঙ্কের বিক্রয়াদেশ দিয়ে বাজারে পতন ঘটায়, আর কারা বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ দিয়ে কোনো বিশেষ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তা জানা কঠিন কিছু নয়। কিন্তু এসব ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নীরবতাই বাজারের গতিকে অস্বাভাবিক করে দেয়। বছরের পর বছর একটি শক্তিশালী স্থিতিশীল বাজারের স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নই থেকে যায়।

গতকাল বাজারে সূচক বেড়েছে ৪৮ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা। ২০১ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। গতকাল বিক্রেতার অভাবে লংকাবাংলা, আরগন ডেনিম, বিএসইসির শেয়ার হল্টেড ছিল। টানা পতনের পর বাজার বেশ তেজিভাব নিয়েই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল সূচক বৃদ্ধিতে পাঁচটি কোম্পানি বেশি ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা ছিল প্রায় পাঁচ পয়েন্ট। এরপরেই আইসিবির কারণে চার দশমিক পাঁচ পয়েন্ট সূচক বেড়েছে। এছাড়া বিএটিবিসি তিন পয়েন্ট, লংকাবাংলা তিন পয়েন্ট ও এনবিএল দুই পয়েন্ট অবদান রাখে। গতকাল রাইট শেয়ারের বিষয়ে ইজিএমের তারিখ ঘোষণার কারণে লংকাবাংলা লেনদেন ও দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। শেয়ারটির দর বেড়েছে পাঁচ টাকা। এছাড়া আইসিবির তৃতীয় প্রান্তিক ও আইডিএলসির প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন ভালো হওয়ায় শেয়ার দুটির দর যথাক্রমে চার টাকা ২০ পয়সা ও দুই টাকা ১০ পয়সা করে বেড়েছে।

গতকাল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল আর্থিক খাতে। মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ২৪ শতাংশ। গতকাল এ খাতে আগের দিনের থেকে লেনদেন বেড়েছে দুই দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর ব্যাংক খাতের অবদান ছিল ১৬ শতাংশ। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে এক দশমিক ৫১ শতাংশ। বস্ত্র, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অবদান ছিল ১২ শতাংশ করে। তবে বস্ত্র খাতে লেনদেন বেড়েছে এক দশমিক ২০ শতাংশ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..