পদ্মার চরে কলাই চাষে কৃষকের মুখে হাসি

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার পদ্মার চরে মাষকলাই চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। ভালো ফলন পাওয়ায় কাটা-মাড়াই শেষে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে ডালজাতীয় এ অর্থকরী ফসল চাষ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরেছে দরিদ্র চরবাসীর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলায় চলতি মৌসুমে তিন হাজার ২৫৬ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষ হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা নদী বিধৌত দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে চাষ হয়েছে দুই হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি মাষকলাইয়ের ফলন হচ্ছে দুই-তিন মণ হারে। কম পরিশ্রমে মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে খরচ বাদে প্রায় তিন হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করে চাষীদের লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মাষকলাই চাষি আব্দুল জাব্বার জানান, চলতি বছর পদ্মার চরে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করা হয়েছে। খরচ হয়েছিল মাত্র সাত হাজার টাকার মতো। পাঁচ বিঘা জমিতে ১৫ মন কালাই পেয়েছি। তিনি আরও জানান, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে এবং কম খরচে অন্যান্য ফসল থেকে এমন আয় হওয়া সম্ভব নয়।

একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্বল্পকালে ডালজাতীয় অর্থকরী ফসল হিসেবে কলাই চাষ করে বেশ লাভবান হাওয়া যায়। এছাড়া চলতি মৌসুমে কলাইয়ের ভালো ফলন হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে এর চাহিদা এবং দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এমন বাজারদর থাকলে আগামীতে কলাই চাষে আরও বেশি আগ্রহী হবে চাষিরা।

এদিকে চাষিদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা মণ দরে মাষকলাই ক্রয় করে সেটি পাইকাররা তিন হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। এতে করে চাষিদের পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। তবে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি কেজি কলাই এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগ থেকে  পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাতের মাষকলাই বীজ সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়ায় এ বছর মাষকলাই চাষে ভালো ফলন হয়েছে। তিনি আরও জানান, অনাবাদী পদ্মার চরে অর্থকরী ফসল মাষকলাই চাষ বৃদ্ধি পেলে দেশের ডালের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে আশা করি। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২০৯  জন  

সর্বশেষ..