দিনের খবর সারা বাংলা

পদ্মায় বিলীনের শঙ্কায় রাজবাড়ীর ছয় বিদ্যালয়

প্রতিনিধি, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী জেলার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে পদ্মা নদী। কয়েক বছরের পদ্মার ভাঙনে জেলার ছয়টি বিদ্যালয় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এবার নদীতে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যে কোনো সময় বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাঙন আতঙ্কে শিক্ষার্থীরাও ঠিকমতো স্কুলে যাচ্ছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের লেখাপড়া।
এদিকে জেলা শিক্ষা অফিস বলছে, ভাঙনকবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলো রক্ষার জন্য তাদের বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিদ্যালয়গুলো অন্য কোথাও স্থানান্তর করার সুযোগ রয়েছে।
রাজবাড়ী সদরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ জানান, সদর উপজেলায় চারটি বিদ্যালয় কয়েক বছর ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে মিজানপুর ইউনিয়নে চর সিলিমপুর ও মহাদেবপুর এবং বরাট ইউনিয়নের উরাকান্দা ও পূর্ব উরাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙনের কবল থেকে এ বিদ্যালয়গুলো রক্ষার জন্য সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, গোয়ালন্দের চাঁদ খানপাড়া ও বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া এ উপজেলা থেকে এর আগে ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে চরবেতকা, বড় সিঙ্গা, দৌলতদিয়া ঘাট ও বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছে।
সদর উপজেলার চরসিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি একেবারে পদ্মা নদীর পারেই অবস্থিত। গত বছর নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বালিভর্তি কিছু জিও ব্যাগ ফেলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এ বছর ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করার জন্য কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। ফলে যে কোনো সময় বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়তে পারে।
চরসিলিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকীর জানান, বিদ্যালয়টিতে ১৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নদীভাঙনকবলিত এলাকার দরিদ্র মানুষের সন্তান। নদীভাঙনের কারণে যদি স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে এসব শিশু প্রাথমিক স্তরেই ঝরে পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত বিদ্যালয়টি ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী জানান, বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে শুনেছেন তিনি, কিন্তু এ ব্যাপারে করার কিছুই নেই। কারণ বিভাগীয় পর্যায়ে বিদ্যালয় ভাঙন রক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বিদ্যালয়গুলো স্থানান্তর করা সম্ভব। এরই মধ্যে বেশ কিছু বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ..