প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পদ্মা গ্রুপ অব কনভার্টারস

পদ্মা গ্রুপের ইতিহাস জানতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৮৭ সালে। ওই বছর পদ্মা ক্যাপ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড দিয়ে ব্যবসা শুরু করে গ্রুপটি। বরিশাল শহরে ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে যাত্রা শুরু প্রতিষ্ঠানটির। প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও ওষুধ খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি পিলফার প্রুফ ক্যাপ তৈরি করত তারা। বর্তমানে তাদের গ্রাহকের মধ্যে রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস, টয়লেট্রিজ, কনজুমার প্রোডাক্টস, কসমেটিকস, বেভারেজ ও পেইন্ট খাতের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
১৯৮৮ সালে বরিশাল শহরে পদ্মা গ্লাস প্রতিষ্ঠা করে গ্রুপটি। এখানে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্লাস অ্যাম্পুল, গ্লাসের শিশি ও শিশির সিল উৎপাদন শুরু করে। ১৯৯৪ সালে ঢাকার সাভারে পদ্মা ক্যানস অ্যান্ড ক্লোজারস প্রতিষ্ঠা করে গ্রুপটি। এখান থেকে ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন শুরু করে। অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম, ত্বক ও চামড়ার ওয়েন্টমেন্টের জন্য টিউব তৈরি করা হয়। তথ্যমতে, দেশে এ ধরনের পণ্য তৈরির প্রথম সারির গ্রুপ এটি। ১৯৯৮ সালে এই একই কারখানা থেকে প্লাস্টিক লেমিনেটেড টিউব ও প্রিন্টিং সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে বোতলের জন্য লেবেল তৈরি করা হয় এ কারখানায়। একই সঙ্গে গ্লাসের বোতল ও সফ্ট ড্রিংকসের জন্য ক্রাউন ক্যাপও তৈরি করা হচ্ছে।
সহস্রাব্দের শুরুতে সাভারের কারখানায় মেটাল ক্যান তৈরি শুরু করে পদ্মা গ্রুপ। নানা রঙের, নানা আকারের বোতল, নারিকেল তেলের বোতল প্রভৃতির জন্য লেবেলও তৈরি করা হয় এ কারখানায়। ২০০২ সালে এ কারখানার দুটি নতুন ইউনিটে প্লাস্টিক ক্যাপ তৈরির মেশিন বসানো হয়। ২০০৪ সালে প্লাস্টিক ক্লোজার তৈরি শুরু করা হয় ক্যানস অ্যান্ড ক্লোজারসের কারখানায়। এখানে তখন থেকে সফ্ট ড্রিংকস ও মিনারেল ওয়াটারের জন্য পিইটি বোতল তৈরি করা হচ্ছে।
২০০৬ সালে গণমাধ্যমের জন্য কাগজ, নিউজপ্রিন্ট, প্রিন্টিং পেপার, লেখার কাগজ প্রভৃতি উৎপাদনের জন্য গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে পদ্মা পেপার মিলস চালু করে গ্রুপটি। ২০০৮ সালে উৎপাদনে আসে কারখানাটি। ২০০১ সালে পদ্মা ব্লোয়িং নামে বরিশাল শহরে গ্লাস অ্যাম্পুল, গ্লাসের শিশি ও বোতল তৈরির আরেকটি কারখানা নির্মাণ করে। এখান থেকে প্যাকিংয়ের পণ্যাদিও উৎপাদন করা হয়। ওই একই বছরে বভস অ্যাপারেলস নামে শতভাগ রফতানিমুখী একটি গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠা করে পদ্মা গ্রুপ। জার্সি, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ট্যাঙ্ক-টপ, শর্টস, পাজামা, লেগিং, সুইট শার্ট, পুলওভার, গাউন প্রভৃতি তৈরি করা হয় এখানে। সব ধরনের পণ্যই বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ডের। বেশিরভাগ পণ্য উন্নত দেশে রফতানি করা হয়। ২০১২ সালে চট্টগ্রামে পদ্মা প্লাস্টিক নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে পদ্মা গ্রুপ। এখানে কয়েক স্তরবিশিষ্ট প্লাস্টিকের লেমিনেটেড টিউবস, লেবেল, পিইটি বোতল ও প্লাস্টিকের ক্যাপ তৈরি করা হয়।
কর্মক্ষেত্র ও তার পরিবেশ একটি ব্যবসায়িক গ্রুপকে অনন্য করে তোলে। পদ্মা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের সব প্রতিষ্ঠানে জাপানের টোটাল প্রোডাক্টিভ ম্যানেজমেন্ট (টিপিএম) দর্শন অনুসরণ করছে। গ্রাহক সন্তুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয় এখানে। গ্রাহকই সঠিক, তাদের সুখী রাখতে হবে এ নীতি অনুসরণ করা হয় এখানে। বিশ্বমানের পণ্য তৈরির পাশাপাশি এবং একই ধরনের সেবা দেওয়া দেওয়া হয় এখানে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় গ্রুপটির সব প্রতিষ্ঠানে। পণ্যের গুণগত মান ও সেবায় কোনো ত্রুটি নেই। প্রত্যেকটি পণ্য উৎপাদনের বেলায় একই ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখানে কর্মরত দক্ষ ও অভিজ্ঞ অনেক কর্মী। কর্মীদের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এখানে। তাদের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিয়মিত গবেষণা করা হয় এখানে যেন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহজে খাপ খাইয়ে নেওয়া যায়।
উল্লিখিত কারণে দেশের অন্যতম শীর্ষ গ্রুপে পরিণত হয়েছে পদ্মা গ্রুপ। অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরেছে তারা। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি প্রভৃতি সমস্যা সমাধান করেই এগিয়ে চলেছে তারা।
পদ্মা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন মাইনুল হক খান। তার নেতৃত্ব গ্রুপটিকে অনন্য স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

গ্রাহক
১৫টি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, প্রায় ৪৭২টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের গ্রাহক তালিকায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ, সানোফি অ্যাভেনটিস, ইউনিলিভার বাংলাদেশ,
কোকা-কোলা, পেপসিকো, এশিয়ান পেইন্টস, বার্জার পেইন্টস, ফিয়েবিং কোম্পানি (যুক্তরাষ্ট্র), ডাবর, পিডিলাইট, রেকিট বেনকিজার, মায়ানমার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোং, নোভার্টিস বাংলাদেশ, বায়ের কর্পসায়েন্স প্রভৃতি।

অর্জন
২০০৯ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশের সেরা ৫০০ প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে তকমা পায় পদ্মা গ্রুপ। মাদ্রিদের ট্রেড লিডারস ক্লাব ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর দি বেস্ট ট্রেড নেম’ হিসেবে ২০০৮ সাালে মনোয়নন দেয় গ্রুপটিকে। এছাড়া ক্লাবটি ‘গ্লোবাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট’ হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে পদ্মা গ্রুপকে।

সহযোগী প্রতিষ্ঠান

পদ্মা ক্যাপ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড

পদ্মা গ্লাস লিমিটেড

পদ্মা ক্যানস অ্যান্ড ক্লোজারস লিমিটেড

পদ্মা লেমিটিউব লিমিটেড

পদ্মা ক্রাউন লিমিটেড

পদ্মা পেপার মিলস লিমিটেড

পদ্মা ব্লোয়িং লিমিটেড

পদ্মা প্লাস্টিক লিমিটেড

বভস অ্যাপারেলস লিমিটেড

রতন কুমার দাস