দিনের খবর শেষ পাতা

পদ্মা নদী ভরাট করে ফেরিঘাট নির্মাণেই শিমুলিয়ায় ভাঙন

কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন

ইসমাইল আলী: পদ্মা নদী ভরাট করে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ফেরিঘাট নির্মাণ করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এজন্য ওই স্থানটি অত্যধিক ভাঙনপ্রবণ। অপরিকল্পিত ঘাট নির্মাণের ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা সেতুর আশপাশের এলাকা। তাই ভাঙন রোধে শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড পর্যন্ত দুই হাজার ৬০০ মিটার এলাকা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এজন্য ব্যয় হবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

গত বছর পদ্মা নদীর শিমুলিয়ায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা যায়। এতে ৬ আগস্ট শিমুলিয়ার ৪নং ফেরিঘাট পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এর আগে ৩১ জুলাই মাওয়ায় পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয় এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী নদীতে ভেসে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয় পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে। ওই বৈঠকে সাত সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। ওই কমিটি ১৫ ডিসেম্বর শিমুলিয়া ফেরিঘাট ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) মো. হারুন উর রশিদ পদ্মা নদীর মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন গুগল ম্যাপের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, বর্ণিত সাইটটি এক সময় মূল নদী ছিল, যা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ভরাটের মাধমে ঘাট স্থাপন করা হয়। ফলে ওই স্থানটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ।

ওই সময় কমিটির সদস্য সচিব পাউবোর ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী জানান, শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দুই হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য বিআইডব্লিউটিএ, সেতু কর্তৃপক্ষ ও পাউবো কর্তৃক যৌথ পরিমাপের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গত অক্টোবরে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভের ভিত্তিতে ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে স্থায়ী ও সতর্কতামূলক প্রতিরক্ষামূলক কাজের নকশা পাউবো কর্তৃক প্রণয়ন করা হয়েছে, যা প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) কর্তৃক অনুমোদিত।

যদিও কারিগরি দিক বিবেচনায় দুই হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যইে প্রতিরক্ষা কাজের সুপারিশ করে ওই কমিটি। আর বিআইডব্লিউটিএ’র প্রণীত নকশার আলোকে স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য প্রতি মিটার ব্যয় ১৯ দশমিক দুই লাখ টাকা ও সতর্কতামূলক প্রতিরক্ষা কাজের ব্যয় প্রতি মিটারে দুই দশমিক ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের ব্যয় হবে প্রায় ৪৯৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এদিকে সেতু বিভাগ জানায়, পদ্মা সেতুর যান চলাচলের জন্য ২০২২ সালের জুনে খুলে দেয়া হবে। এরপর আরও এক বছর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড পদ্মা সেতু ও প্রকল্প এলাকা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূল ঠিকাদারের। তাই এ সময় মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ও এক হাজার ৭৫০ মিটার এলাকা গাইড বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ। ফলে এ সময় শিমুলিয়া থেকে মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড পর্যন্ত স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়ন ফলপ্রসূ হবে না।

এতে উপস্থিত সবাই আইনগত ও কারিগরি দিক বিবেচনায় শিমুলিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে ৬৫০ মিটার এলাকায় অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। তা না হলে ভাঙনের কারণে এ বছরও ফেরিঘাট ব্যবহার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করা হয়। তবে চলতি অর্থবছর বরাদ্দ না থাকায় এ কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে পাউবো। এক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএকে নিজস্ব অর্থায়নে অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। তবে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করলে জনবসতি রক্ষায় আরও ২০০ মিটার এলাকা অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানায় পাউবো।

এদিকে কারিগরি কমিটি আরও জানায়, ভাঙন রোধে শিমুলিয়া ফেরিঘাট ও আশপাশের এলাকা বর্তমানে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে পরবর্তী সময়ে ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মডেল স্টাডি প্রয়োজন। সে অনুপাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জানতে চাইলে কারিগরি কমিটির সভাপতি মো. হারুন উর রশিদ শেয়ার বিজকে বলেন, শিমুলিয়া ঘাট ও আশপাশের এলাকায় ভাঙন রোধে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অস্থায়ীভাবে ৬৫০ মিটার ও ২০২৩ সালের জুনে পদ্মা সেতু বুঝে পাওয়ার পর দুই হাজার ৬০০ মিটার এলাকা স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..