সম্পাদকীয়

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে গতি সঞ্চারে উদ্যোগ নিন

বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প পদ্মা সেতু। ক্ষমতায় এসে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কাজও শুরু করেছিল সরকার। কিন্তু পরে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি ?‘দুর্নীতি’র অভিযোগ এনে বেঁকে বসে। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এর নির্মাণ। বিশ্বব্যাংকের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী। অবস্থান স্পষ্ট না করলে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ না নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পরে সরকার এর জন্য অর্থায়নের অনুরোধ প্রত্যাহার করে। এ অনুরোধ প্রত্যাহারের আগে-পরে কয়েকটি দেশ অর্থায়নে আগ্রহ দেখালেও সেগুলো সাশ্রয়ী বিবেচিত না হওয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয় সরকার। তবে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও পরবর্তী সময়ে কানাডার আদালতে সেটির কোনো প্রমাণ মেলেনি।

বহুল প্রত্যাশিত সেই পদ্মা বহুমুখী সেতু সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। দ্রুত এর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। দ্বিতল এ সেতু মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের মাধ্যমে পদ্মার দুই পাড়কে সংযুক্ত করবে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। সব বিবেচনায় আমাদের স্বপ্নের সেতু।

স্বপ্নের সেতুর নির্মাণকাজ যেন মসৃণগতিতে চলছে না। গতকালের শেয়ার বিজে ‘করোনা-বন্যায় ঝুলে গেছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ’ শীর্ষক প্রতিবেদন আবার সেই সত্যই তুলে ধরেছে। খবরে বলা হয়, চীন থেকে ফেরেনি ঠিকাদারের বিশেষজ্ঞ দল, আসছে না নির্মাণসামগ্রী। আবার জমি বুঝিয়ে দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষতিপূরণ চায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে আরেক দফা বাড়বে নির্মাণ ব্যয় ও প্রকল্পের মেয়াদকাল।

কভিডের প্রকোপ কমার আগেই বন্যা আঘাত হানে। অন্য মেগা প্রকল্পের মতো পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে একই দিনে সেতুতে যানবাহন ও ট্রেন চালু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জুনের মধ্যে চীন থেকে ভাঙ্গা-মাওয়া অগ্রাধিকার সেকশনের জন্য রেল, ফিটিংস, ব্রিজের গার্ডার প্রভৃতি পৌঁছার কথা থাকলেও কভিডের কারণে জাহাজীকরণ বন্ধ ছিল এবং চীনে কিছু আনুষঙ্গিক পণ্যের উৎপাদন বন্ধ ছিল। ফলে সময়মতো নির্মাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। নির্মাণকাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পাদিত না হওয়ায় কাজের মেয়াদ এবং প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়বে। কভিড ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের হাত নেই। কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট কারণে প্রকল্পের ব্যয় যেন না বাড়ে, ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কমিটিকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সময়মতো নির্মাণসামগ্রী এনে এবং কাজে গতি বাড়িয়ে একই সময় সড়ক ও রেল সেতু চালু করা যায় কি না, সেটির সম্ভাব্য উপায় খুঁজতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..