পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কা ষড়যন্ত্র কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কার ঘটনা ‘উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ’ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল রোববার সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে নানামুখী ষড়যন্ত্র হয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে নানা গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী ও উন্নয়নবিরোধী একটি অপশক্তি।

তিন দিন আগে পদ্মা সেতুর একটি পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগার ঘটনা তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ফেরির ধাক্কায় পিলারের কোনো ক্ষতি না হলেও এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গর্বের এ সেতু নিয়ে আগেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এখনও যে নেই তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদারীপুরের বাংলাবাজারঘাট থেকে শিমুলিয়ায় আসার পথে ফেরি শাহজালাল পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে ফেরির সামনের অংশে বড় ধরনের ছিদ্র হয়ে যায়।

সেতুমন্ত্রী জানান, আঘাতকারী ফেরির ওজন ছিলে এক হাজার ২৮৪ টন, আর পদ্মা সেতুর ডিজাইন অনুযায়ী ৩০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চার হাজার টন ওজনের নৌযানের ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা রয়েছে প্রতিটি পিলারের।

সঠিকভাবে পরিচালনায় ‘ব্যর্থ হওয়ায়’ ওই ফেরির ইনচার্জ ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার আব্দুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

ফেরির ধাক্কায় পদ্মা সেতুর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তবে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিসি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংগঠনের নামের আগে-পরে লীগ বা আওয়ামী শব্দ জুড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় থাকলে নানা সুবিধাভোগী শ্রেণি ও বসন্তের কোকিলরা এ ধরনের চেষ্টায় লিপ্ত হয়, যুক্ত হয় নানা আগাছা-পরগাছা।

তবে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে ‘লীগ’ বা ‘আওয়ামী লীগ’ এমনকি বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম ব্যবহার করে পাঁচ শতাধিক ভুঁইফোঁড় সংগঠন গড়ে উঠলেও এগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

নানা সময় বিতর্কিত মন্তব্য করে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হওয়া ওলামা লীগসহ অনেকের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আওয়ামী লীগ।

‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে এর সভাপতি পদে থাকায় শনিবার সন্ধ্যায় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের উপকমিটি ও জেলা কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয় ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির দলে অনুপ্রবেশ ঘটলে কিংবা কারও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে।

বিষয় ➧

সর্বশেষ..