দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল!

ইসমাইল আলীপদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের নভেম্বরে। পরে তা কয়েক দফা পেছানো হয়। বর্তমানে তা বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী তথা ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের কথা বলা হচ্ছে। তবে বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতেও নির্মাণশেষে সেতুটির উদ্বোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন।

সম্প্রতি বাড়তি সময় চেয়ে সেতু বিভাগে দেওয়া চিঠিতে এ তথ্য জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকৃতপক্ষে কবে নাগাদ পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে, তা নিশ্চিত করতে বলতে পারছে না সেতু বিভাগ-সংশ্লিষ্টরা। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি সেতু বিভাগে জমা দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মূল সময়সীমা বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে, যা ছিল ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর। পরবর্তী সময়ে মূল সেতুর কাজ শেষ করার জন্য চায়না মেজর ব্রিজকে তিন দফা ৯৫০ দিন বাড়তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৮০ দিন, দ্বিতীয় দফা ৫৮৮ দিন ও তৃতীয় দফা আরও ১৮০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে ২০২০ সালের ৩০ জুন পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আসে মূল সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল সেতুর অগ্রগতি ছিল ৮৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ওই সময়ে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন দশমিক শূন্য চার শতাংশ পিছিয়ে আসে মূল সেতুর কাজ। আর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল সেতুর আর্থিক অগ্রগতি ৮৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে চায়না মেজর ব্রিজ। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল।

সূত্রমতে, এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর আরেক দফা বাড়তি সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে সময় নির্মাণকাজ শেষ করার সম্ভাব্য দুটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়। একটি ছিল ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও অন্যটি ২০২২ সালের ৩০ জুন। তবে তা গ্রহণ না করে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় প্রস্তাব করতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যদিও প্রকৃতপক্ষে কবে নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি শেয়ার বিজকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পেলেও এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। বিষয়গুলো ভালো করে যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। কারণ তাদের প্রস্তাব মেনে নিলে তার জন্য যথাযথ কারণ দেখাতে হবে। আবার প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিষয়টি কারিগরি ও জটিল।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর চুক্তি পর্যালোচনার জন্য পৃথক কন্ট্রাক্ট স্পেশালিস্ট আছে। তিনি নিউজিল্যান্ডে আছেন। তার কাছে চায়না মেজর ব্রিজের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তিনি খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে মতামত জানাবেন। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া ঠিকাদারকে আগামী বছর জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া আছে। তাই তাড়াহুড়ার কিছু নেই। তবে ঠিক কবে নাগাদ পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে মূল সেতুর পাশাপাশি পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদী শাসন অংশের বাস্তবায়নও পিছিয়ে আছে। পরামর্শকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে নদী শাসনের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে। পরে তা দুই দফা বাড়ানো হয়। সংশোধিত সর্বশেষ হিসাবে, নদী শাসনের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালের ৩০ জুন।

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী শাসন অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে বাস্তবে কাজ হয়েছে ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক দশমিক ৭৯ শতাংশ পিছিয়ে আছে নদী শাসনের কাজ। আর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী শাসনের আর্থিক অগ্রগতি ৬১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

আগামী বছর জুনের মধ্যে নদী শাসন অংশের কাজও শেষ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। তবে তারা এখনও বর্ধিত সময়সীমার প্রস্তাব করেনি।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি মূল্য ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর নদী শাসনের চুক্তি মূল্য ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তবে নকশা পরিবর্তন এবং বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে মূল সেতু ও নদী শাসন এবং মোট প্রকল্প ব্যয় সবই বেড়ে যাবে। এর বাইরে গত আগস্টে পরামর্শক নিয়োগ ব্যয় ৩৪৮ কোটি এক লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে পরামর্শক বাবদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..