দিনের খবর প্রথম পাতা

পদ্মা সেতুর টোল প্রস্তাবে বড় ধরনের পরিবর্তন

ইসমাইল আলী: ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ। আর আগামী বছর জুনের মধ্যে যান চলাচলের সেতুটি খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এজন্য পদ্মা সেতুর টোল হার চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সেতু বিভাগ।

সম্প্রতি এক দফা টোল হার চূড়ান্তও করেছিল সেতু বিভাগ। তবে ওই প্রস্তাবে বাইকের টোল হার ধরা হয়েছিল ৮৩৬ টাকা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ার বিজে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘প্রস্তাব চূড়ান্ত: পদ্মা সেতুতে বাইক, কার ও মাইক্রোবাসে টোল ৮৩৬ টাকা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনের পর সেতুটির টোল হার নিয়ে নানা মহলের আপত্তি ওঠে। ফলে নতুন করে টোল প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে বাইকের পাশাপাশি প্রাইভেট কারেও প্রস্তাবিত টোল হার কমানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে প্রস্তাবটিতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পদ্মা নদী ফেরিতে (শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি) পারাপার হতে বিভিন্ন যানবাহনে যে চার্জ দিতে হয়, সেতুতে তার প্রায় দেড়গুণ হারে টোল প্রস্তাব করা হয়েছে। আর আগের প্রস্তাবে ১৫ বছর পরপর টোল হার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল। তবে নতুন প্রস্তাবে তা তিন বছর পরপর পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবনামতে, বর্তমানে ফেরিতে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটে বাইক পারাপারে চার্জ ৭০ টাকা। আর পদ্মা সেতুতে বাইকে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা। এছাড়া প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে ফেরি পারাপারের চার্জ দিতে হয় ৫০০ টাকা। ফলে পদ্মা সেতুতে এ ধরনের মোটরযানে টোল দিতে হবে ৭৫০ টাকা। তবে প্রাডো, নিশান বা অন্যান্য বিলাসবহুল জিপ ও পিকআপে টোল দিতে হবে এক হাজার ২০০ টাকা।

এর বাইরে পদ্মা সেতুতে মাইক্রোবাস চলাচলে টোল দিতে হবে এক হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া ছোট বাস তথা কোস্টারে এক হাজার ৪০০ টাকা টোল প্রস্তাব করেছে সেতু বিভাগ। আর মাঝারি বাস দুই হাজার টাকা ও বড় বাসে দুই হাজার ৪০০ টাকা টোল প্রস্তাব করা হয়েছে সেতুটিতে।

এদিকে পদ্মা সেতুতে পণ্যবাহী যান চলাচলের জন্য ছোট ট্রাকে (পাঁচ টনের কম) টোল এক হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (পাঁচ থেকে আট টন) দুই হাজার ১০০ টাকা এবং বড় ট্রাকে (আট টনের বেশি) দুই হাজার ৮০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান ফেরির চার্জের প্রায় দেড়গুণ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া তিন এক্সেলের ট্রাক তথা কাভার্ডভ্যানে টোল দিতে হবে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা।

এর বাইরে পণ্যবাহী কনটেইনার তথা ট্রেইলারে পৃথক হারে টোল আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চার এক্সেলের ট্রেইলারে টোল ছয় হাজার টাকা আর চার এক্সেলের বেশি হলে ছয় হাজার টাকার সঙ্গে পরবর্তী প্রতি এক্সেলের জন্য দেড় হাজার টাকা করে অতিরিক্ত টোল যোগ হবে।

জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, পদ্মা সেতুর টোল প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান ফেরির চার্জের দেড়গুণ টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে। শিগগিরই এ প্রস্তাব বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় উঠবে। এর পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়কেও টোল হার জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ টোল হার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে টোল হার খুব বেশি ধরা হয়নি। তবে সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় কোনো আপত্তি উঠলে বা প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রস্তাব করলে তা পরিবর্তন করা হবে। অন্যথায় টোলের এ হারই চূড়ান্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, সেতুটি উদ্বোধনের পর প্রথম তিন বছরের জন্য এ টোল হার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর মূল্যস্ফীতি, সেতুটির ঋণ পরিশোধের পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় প্রতি তিন বছর পর সেতুটির টোল হার পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা জেডিসিএফ বাবদ অনুদান পাওয়া গেছে। বাকি ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এক শতাংশ সুদসহ ৩৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে সেতু বিভাগকে। প্রতি বছর চার কিস্তি হিসেবে এক্ষেত্রে ১৪০টি কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের পদ্মা বহুমুখী সেতুর ডিটেইলড ইকোনমিক অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী সেতুটিতে যান চলাচলের সংখ্যা ধরা হয়েছে। এতে ২০২২ সালে সেতুটিতে দৈনিক গড়ে সাত হাজার ৮৩৫টি যানবাহন চলাচলের কথা। আর উদ্বোধনের ৩৫তম বছর, অর্থাৎ ২০৫৬ সালে সেতুটিতে দৈনিক যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৭১ হাজার ২৭২টি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..