প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে জনবল তৈরির উদ্যোগ নিন

পদ্মা সেতু নির্মাণে আমাদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। যে ধরনের দক্ষতায় আমরা সেগুলো মোকাবিলা করেছি, তা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এতে বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা বেড়েছে। সেই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বজায় রাখতে আমাদের পরিশ্রম ও কর্মদক্ষতা অব্যাহত রাখতে হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ করলেও এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে পদ্মা সেতু তৈরির দায়িত্বে থাকা চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনের (কেইসি)। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে নয়। আমরা সেতু নির্মাণ করতে পারব, কিন্তু তা পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারব না, তা হয় না। আমাদের অবশ্যই সে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা দেশের নিজস্ব জনবল দিয়ে সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে সেতু পরিচালনায় ব্যয় কমবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দেশের জনবলের এই অভিজ্ঞতা কাজে আসবে।

দেশের যারা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেখানো হবে। ফলে ভবিষ্যতে আমরা দেশের জনবল দিয়ে পদ্মা সেতুর এই কাজগুলো করতে পারব। কিন্তু দেখে দেখে শেখা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি সেতুর নিজস্ব জনবল তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। সেতু বিভাগ দেশের  বিভিন্ন প্রান্তে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ করছে। হয়তো বর্তমানে দেশে বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে দেশে কোনো বড় সেতু নির্মাণ করতে হবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু আর ১০টি সেতুর মতো নয়। জাতীয় উন্নয়ন-অগ্রগতিতে এর অবদান বিবেচনায় এটির পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতার ওপর কোনো স্থাপনার সঠিক ব্যবহার ও আয়ুষ্কাল  নির্ভর করে। সেতুর টোল আদায়ে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতির মতো সর্বাধুনিক ব্যবস্থা চালু করা গেলে ব্যবহারকারীরা স্বচ্ছন্দে কম সময়ে সেতু পার হতে পারবেন।  ইটিসি লেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং এ ক্ষেত্রে কোনো যানবাহনকে টোল বুথে থামতে হয় না। পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে পারফরম্যান্স বেইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। এ পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও এ-সংক্রান্ত বাজেট প্রণয়নে সহায়ক হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ট্রাফিক ইনফরমেশন অ্যাপ চালু  হওয়ায় প্রতি মুহূর্তে সড়ক, সেতু বা এর আওতাধীন অন্য যেকোনো অবস্থানের বিদ্যমান যানবাহন-সংক্রান্ত তথ্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ফোন, বেতার বা অন্য কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে জানা যাবে।  ভবিষ্যতে দেশের জনবল দিয়ে পদ্মা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। পদ্মা সেতুর মতো সেতু দেশে আরও তৈরি হবে। তখন যেন নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়সহ আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য আমাদেরই জনবল তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।