প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি কেউ

পাঠকের চিঠি

গত ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (২৫ জুন ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ) শনিবার খরস্রোতা পদ্মার বুকে নির্মিত পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে আত্মমর্যাদায় একধাপ এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বাঙালি জাতি। যে পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহু যুগের স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্ন অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেদ ও একাগ্রতার মাধ্যমে বাস্তব করা সম্ভব হয়েছে। পদ্মা সেতু আয়তনে ততটা বড় না হলেও পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ খরস্রোতা (প্রথম আমাজন) নদী পদ্মার বুকে গড়ে তোলা হয়েছে, যা শুধু ইট, বালি, রড সিমেন্টে গড়া স্থাপনাই নয়, বাঙালি জাতির অহংকার, আত্মমর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক।

২০২২ সালে এসে পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলেও এ স্বপ্ন সহজে ধরা দেয়নি। ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পদ্মার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও ক্ষমতার পালাবদলে ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে পদ্মা সেতুর জন্য বাজেট ঘোষণার পর ২০০৯ সালে পুনরায় বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পদ্মা সেতু নির্মাণ কার্যক্রম গতি পায়। এই সময়ে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক দুর্নীতির অভিযোগ তোলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়া ও দেশি-বিদেশি চক্রান্তের রেশ কাটিয়ে স্বগৌরবে এগিয়ে চলে পদ্মা সেতুর কাজ। ২০০৫ সালে প্রথম ঘোষিত বাজেটের প্রায় তিনগুণ অর্থ খরচে পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলেও নির্মাণ খরচ ছাপিয়ে প্রমত্তা পদ্মার বুকে পদ্মা বহুমুখী সেতু বাস্তবায়ন করাই একটা সোনালি ইতিহাস। এই ইতিহাসের গর্বিত অংশীদার বাঙালি জাতি। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজেদের টাকায় তো নয়ই, বিদেশি ঋণেও পদ্মা সেতু হবে কি না, তারও নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু অবশেষে নিজেদের অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। যুগ যুগ ধরে দেখা স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দিয়েছে।

পদ্মায় কোনো ব্রিজ না থাকার কারণে ফেরি পারাপারের জটিলতায় কত মায়ের বুক খালি হয়েছে, কত তাজা প্রাণ ঝরে গেছে, তার হিসাব নেই। পণ্য পরিবহনের জটিলতায় দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পতিত হয়েছেন যুগের পর যুগ। সেসব বেদনার দিনগুলো পেছনে ফেলে পদ্মার মাঝে নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে। পিছিয়ে থাকা দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণের সুযোগ এসেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম ও ফেরিতে আটতে থাকার যন্ত্রণাময় দিনের অবসান ঘটেছে। ফেরিতে ওঠা নামায় দুই ঘণ্টার সময়ের বদলে এখন মাত্র ৬ মিনিটেই পারি দেয়া যাবে পদ্মা নদী। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পদ্মা সেতু ঢাকার সঙ্গে পায়রা ও মোংলা বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ১.২% প্রবৃদ্ধি আনবে। প্রতি বছর ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা টোল আদায় করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। নিজেদের টাকায় নির্মাণের পরও বিরোধী দলসহ বহু মানুষ দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে এখনও। বাংলাদেশে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়, সে হিসেবে বড় বাজেটের পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে ধারণা করা হলেও সমালোচকদের কেউই দুর্নীতির প্রমাণসহ অভিযোগ করতে পারেননি। ফলে এসব অভিযোগে বিচলিত না হয়ে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে পুরো দেশকে একসুতোয় গেঁথে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দেশীয় অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করার স্বপ্ন এখন সব নাগরিকের মাঝে।

জুবায়ের আহমেদ

শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)

ঢাকা